যশোর পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় জামায়াতের উদ্বেগ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একের পর এক খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি-দখলবাজি নিয়ন্ত্রণে যশোর পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার সকালে প্রেস ক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, যশোরে অব্যাহত খুন, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধর ঘটনা ঘটলেও তাদের দমনে কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। যে কারণে এসব অপরাধ ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ গত ৪ নভেম্বর রাত সোয়া ৭টার সময় মসজিদে এশার নামাজ আদায় করতে যাবার সময় খোলাডাঙ্গা সার গোডাউনের উত্তর পাশে রাস্তার ওপর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মারা যান জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলাম সজল।
সকাল সাড়ে ১১টায় প্রেস ক্লাব যশোর মিলনায়তনে দলীয় কর্মী আমিনুল ইসলাম সজল হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন, জামায়াতে ইসলামী যশোর শহর সাংগঠনিক জেলার সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা বলেন, যশোর শহরতলীর মণ্ডলগাতী, খোলাডাঙ্গা ও গাজীরবাজার এলাকায় সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিচরণ ক্ষেত্র। পতিত আওয়ামী সরকারের আমল থেকে এসব সন্ত্রাসীরা ওই এলাকায় একের পর এক খুন, রাহাজানি, ছিনতাইম, চাঁদাবাজির মাধ্যমে সাধারন মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। এখনো সেই আমলের সন্ত্রাসী গডফাদারদের ইন্ধনে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের পর থেকে ওই এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জামায়াতে ইসলামী সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড গাজীর বাজার ইউনিটের সভাপতি ও খোলাডাঙ্গা গাজীর বাজার কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম সজল ভূমিকা রাখছিলেন। এজন্য সন্ত্রাসীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ডে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী খোড়া কামরুল, টিটো, স্মরণ, লাবিব, মুন্না, মুরসালিনসহ আরও কয়েকজন সরাসরি জড়িত বলেও জানানো হয়।
এরমধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি লাবিবসহ ৫ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু মূল আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ওইসব সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সাথে সম্মেলন থেকে সন্ত্রাসীরা যেন কোন রাজনৈতিক দলের আশ্রয় না পায় তারও আহবান জানান জেলা আমির।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল ও জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস। খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে কথা বলেন নিহত আমিনুল ইসলাম সজলের ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম সুজন। উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর মো. বেলাল হুসাইন, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শামসুজ্জামান, মাওলানা রেজাউল করিম, প্রচার সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, মাওলানা ইসমাইল হোসেন, আরবপুর ইউনিয়ন সভাপতি আসাদুজ্জামান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর রাত সোয়া ৭টার সময় মসজিদে এশার নামাজ আদায় করতে যাবার সময় খোলাডাঙ্গা সার গোডাউনের উত্তর পাশে রাস্তার ওপর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মারা যান আমিনুল ইসলাম সজল। এঘটনায় তার ভাই আজাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ নভেম্বর যশোর কোতয়ালি মডেল থানায় ৬ আসামির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।