যশোর জেনারেল হাসপাতাল : ২৪ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ১০৯

0
  • দুই দিনে বহিঃর্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ১৩শ’ শিশু

বিএম আসাদ ॥ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ২৪ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ভর্তি ছিল ১০৯ রোগী। সোমবার এ সংখ্যা ছিল ৯৮। হাসপাতালটির বহিঃবিভাগেও শিশু রোগীর উপচে পড়া ভীড়। সোমবার বহিঃবিভাগ থেকে ৭শ’ শিশু চিকিৎসা নেয়। মঙ্গলবার শিশু রোগীর সংখ্যা ছিল ৬০০। যাদের বড় অংশ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। এদিকে হাসপাতালে শিশুদের ঠান্ডা জনিত রোগের ওষুধ ফুরিয়ে গেছে। প্যারাসিটামল ও হিস্টাসিন সিরাপ দিয়েই সামাল দেয়া হচ্ছে শিশু রোগীদের।
হাসপাতালের পরিসংখ্যানে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নেয় ১ হাজার ৮শ ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬২৯ জন, মহিলা ৬৩০ জন ও শিশু ৬০০ জন। এর মধ্যে শিশু বিভাগে (কক্ষ নম্বর ১১৫ ও ১১৬) ২৩০ শিশুর ব্যবস্থাপত্র নিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল ৯৫ শিশু। বিকলে পর্যন্ত ১৪ শিশু নতুন ভর্তি হয়। ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৯। রাতে এ সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সোমবার একদিনে বর্হিবিভাগে ১ হাজার ৮শ’ ৮০ জন রোগী টিকিট কেটে চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে পুরুষ ছিল ৫৮৬, মহিলা ৫৯৪ ও শিশু রোগীর সংখ্যা ছিল ৭শ’। এদের মধ্যে সরাসরি শিশু বিভাগ (কক্ষ নং ১১৫ ও ১১৬) থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়েছে ২১৫শিশু।


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ও বহিঃবিভাগের শিশু বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীরা ঠান্ডা জনিত সর্দি-কাশি, গলা ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট, জ¦র, ডায়েরিয়া, নিউমোনিয়া, মাথা ব্যাথাসহ বিভিন্ন রোগী আক্রান্ত। ঋতু পরিবর্তনের কারনে সব বয়সের মানুষই ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এদিকে হাসপাতালে শিশুদের ঠান্ডা জনিত রোগের কোন ওষুধ নেই। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে অভিভাবকের সাথে আরিনা নামে ৭ বছর বয়সী এক শিশু সর্দি, কাশি ও গলায় ব্যাথা নিয়ে আসে হাসপাতালের বর্হিবিভাগে। তার চিকিৎসায় ডাক্তার আমব্রোস্ক ও ফেক্সিকোল্ড নামে নামে দুটি ওষুধ লেখেন। ঠান্ডা জনিত রোগের জন্য আবশ্যকীয় এ দুটি ওষুধ হাসপাতালে নেই। ফলে বাইরের ফার্মেসি থেকে কেনার পরামর্শ দেয়া হয় রোগীর স্বজনদের। শুধু আরিনা না, তার মতো অনেক শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে হাসপাতালের বহির্বিভাগে কিন্তু চিকিৎসা পেলেও ওষুধ পাচ্ছে না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ওষুধ সরবরাহের জন্য এমএসআর টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু কোন ঠিকাদার ওষুধ সরবরাহ করেননি। ফলে হাসপাতালে শিশুদের ওষুধের সংকট মারাত্মক আকার ধারন করেছে।
যশোর মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আহমেদ ফেরদৌস জাহাঙ্গীর সুমন জানিয়েছেন, আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এতদিন ছিল গরম আবহাওয়া। এখন শুরু হয়েছে ঠান্ডা। এ অবস্থায় শিশুরা ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, গলাফোলা ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তাদের যথাযথ চিকিৎসা দরকার।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হারুন অর রশীদ শিশুদের ওষুধের সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, অন্যান্য রোগীদের ওষুধের সংকট আছে। ইডিসিএল লিমিটেডের দেয়া সরকারি যে ওষুধ আছে তাই দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হচ্ছে। এখন এমএসআর টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। নতুন নিয়োগকৃত ঠিকাদাররা ওষুধ সরবরাহ দিলেই সংকট কেটে যাবে। তাতে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে ওষুধ পাওয়া যাবে বলে তত্ত্বাবধায়ক আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অধীন বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও বেসরকারি হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, এ ঠান্ডায় শিশু রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসরা যথাযথ সেবা দিচ্ছে। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ওষুধের কোন সংকট নেই।