যশোর জেনারেল হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার থেকে টাকা ছিনতাই করলেন হিসাব সহকারী

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার থেকে গতকাল অফিস চলাকালীন সময়ে টাকা ছিনতাই হয়েছে। হিসাব সহকারী কামাল হোসেন আচমকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলে অন্যান্যরা তাকে আটকে দেন। পরে ছিনিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত দিয়ে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন কামাল। তিনি যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুল খালেকের ছেলে।
অভিযোগ আছে, কামাল হোসেন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের হিসাব সহকারী পদে চাকরি করলেও ঠিমতো অফিস করেন না। খেয়াল খুশিমতো অফিসে আসেন।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের বর্হিবিভাগে ছিল রোগীর ভীড়। এ সময় সেখানে পিএসএ পদে চাকরিরত কমপ্রেসার অপারেটর প্রিয়ব্রত দে, নবদীপ কুমার ও সঞ্জয় কুমারসহ ৪ জন বর্হিবিভাগে রোগীদের নিকট নিকট বিক্রি করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় হিসাব সহকারী কামাল হোসেন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অফিস থেকে নিচে নেমে টিকিট কাউন্টারে হানা দেন এবং কর্তব্যরত কর্মচারীদের সামনে কাউন্টারের ক্যাশ থেকে টাকা লুট করে নেন। তখন কর্মচারী বাঁধা দিলে তাদের ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেন। এ সময় রোগী ভীড়ের ভেতর ব্যাপক হৈ চৈ হলে অন্যান্য কর্মচারীরা এগিয়ে যান। তাকে (কামাল হোসেনকে) নিয়ে কর্মচারীরা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হারুন-অর-রশীদের কার্যালয়ে নিয়ে যান। তত্ত্বাবধায়কের চাপে কামাল লুটকৃত ৬ হাজার ৪শ ৬০ টাকার মধ্যে ৫ হাজার ৯শ ৫০ টাকা ফেরত দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এ অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশীদ ৫০০ টাকা ও হিসাবরক্ষক ইস্রাফিল হোসেন ১০ টাকা পকেট থেকে দেন।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হারুন-অর-রশীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ৬ হাজারের বেশি টাকা কামাল হোসেন বর্হিবিভাগের কাউন্টার হতে লুট করে নিয়েছিল। পরে ৫ হাজার ৯শ ৫০ টাকা ফেরত দিয়ে ও ৫শ ১০ টাকা ফেরত না দিয়ে চলে যায়। তিনি বলেন, ‘ও পাগল, গাঁজা গুঁজি খায় হয়তো। তাই এ ধরনের কাজ করতে পারে। আবার তার বাপ (পিতা) কারাগারে আটক রয়েছে সেজন্যও টেনশনে এমন করতে পারে।’
হাসপাতালের হিসাব সহকারী কামাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, ‘ওসব কিছু না। তোমরা চুপ থাকো, সব ঠিক হয়ে যাবে।’