যশোরে শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিক জেলা প্রশাসককে দিলেন খেতমজুর সংগ্রাম পরিষদ নেতারা

ক্ষতিপূরণ চেয়ে চৌগাছায় সংবাদ সম্মেলন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ে যশোরে দুই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নয়শ’ ৭১ জন কৃষক। জেলা প্রশাসন আজাহারুল ইসলামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সমিতির নেতাকর্মীরা দুর্গত এলাকা ঘুরে এই তালিকা তৈরি করেছেন।

গতকাল রোববার জেলা প্রশাসকের কাছে তালিকাটি হস্তান্তর করেন নেতৃবৃন্দ। গত ২৮ এপ্রিল দুপুরে ওই শিলাবৃষ্টি ও ঝড় হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে গত ২৯ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাৎ করেন কৃষক ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদ নেতৃবৃন্দ। জেলা প্রশাসক নেতৃবৃন্দকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের আহবান জানান। যার ভিত্তিতে গতকাল রোববার ওই তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগ্রাম পরিষদের নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু।

তিনি জানান, দুই উপজেলার আক্রান্ত এলাকায় খোঁজ নিয়ে তালিকা করা হয়েছে। এতে চৌগাছা উপজেলায় নয়শ’ ৪১ জন এবং সদর উপজেলায় ৩০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম পাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ আমার কাছে প্রথম দিন স্মারকলিপি দিতে আসলে আমি তাদেরকে তালিকা তৈরির কথা বলেছিলাম। তারা মাঠ থেকে একটা তালিকা প্রস্তুত করে আমাকে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি এই তালিকা সরকারকে দেবো এবং কৃষি বিভাগকে জানাবো। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেই অনুযায়ী কাজ করবে জেলা প্রশাসন’।

এ বিষয়ে যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. আবু তালহা বলেন, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ক্ষত্রিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা এখনো আমাদের কাছে আসেনি। তালিকা পেলে অবশ্যই গুরুত্ব দেয়া হবে। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। এসব কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় এনে ভবিষ্যতে সহযোগিতা করা হবে।

রোববার তালিকা হস্তান্তরের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রফিউদ্দিন, শাহজাহান আলী, আলাউদ্দিন, হাচিনুর রহমান, সাহবুদ্দিন বাটুল, উজ্জ্বল বিশ্বাস এবং ইমরান খান।

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) জানান, চৌগাছায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সরকারি সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গতকাল রোববার বিকেলে প্রেস ক্লাব চৌগাছায় বাংলদেশ জাতীয় কৃষক সমিতির উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জাতীয় কৃষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান।

তিনি বলেন, গত ২৮ এপ্রিল শিলাবৃষ্টিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বর্তমানে দিশেহারা। ঋণগ্রস্ত হয়ে তারা জমিতে ফসল উৎপাদন করেন। কিন্তু শিলা বৃষ্টিতে তারা সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন। তাই কৃষকদের উন্নয়নে সরকারিভাবে সহযোগিতা করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে পাঁচটি দাবি উত্থাপিত করা হয়।

দাবিগুলো হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন করা, নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ, ফসলের জমিতে কৃষক বজ্রপাত বা দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করলে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, কৃষি পেশাকে সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া। উল্লিখিত দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামিরা গ্রামের কৃষক আকরাম হোসেন ও আব্দুল মাজিদ, উত্তর কয়ারপাড়ার কৃষক বিশ্বজিৎ, লুৎফর রহমান, আলী হোসেন, মিলন হোসেন, বজলুর রহমান, শাহাবুদ্দিন, আব্দুল গনি ও আলমগীর হোসেন।