ঝিকরগাছায় যুব জামায়াত নেতাকে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের ঝিকরগাছায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের এক নেতাকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি, মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছে জেলা জামায়াতের নেতারা। একই ঘটনায় আরেক কর্মীকেও মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে।

বুধবার প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ। উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম ও আল-আমিন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদে যান উপজেলা যুব জামায়াতের টিম সদস্য জহিরুল ইসলাম। কাজ শেষে উপজেলা পরিষদের গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় আরমান হোসেন কাকন, নাফিজ অনিক, নওয়াজিস ইসলাম রিয়েল, রাসেল, সাগর, পিন্টু হোসেন পিনুসহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন। পরে তার মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক অন্য একটি মোটরসাইকেলে তুলে ঝিকরগাছা আবিদ ডায়াবেটিক হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, সেখানে জহিরুল ইসলামের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা জহিরুল ইসলামের এটিএম কার্ড ও পিন নম্বর নিয়ে তার কাছে থাকা নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি ব্যাংকের চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন এবং এটিএম বুথ থেকে আরও ১২ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

একই ঘটনায় যুব জামায়াত কর্মী আল-আমিনকেও মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করা হয়। জহিরুল ইসলামের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেওয়া হয় এবং সেখানে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আহত জহিরুল ইসলামকে প্রথমে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অভিযুক্ত কাকন ও রাসেল ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। বর্তমানে জহিরুল ইসলাম যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলে অভিযুক্তদের কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ গ্রহণ না করার জন্য পুলিশকে চাপ দেয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। তবে হামলাকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়নি।