যশোরে প্রতিদিন বাড়ছে ডায়রিয়া রোগী পরিস্থিতি নিযন্ত্রণের দাবি স্বাস্থ্য বিভাগের

0

বিএম আসাদ ॥ যশোরে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৪৩ জন রোগী জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এক সপ্তাহে ভর্তি হয়েছে ৩শ’ ৫২ জন। আক্রান্তদের ভেতর বেশিরভাগ শিশু। তীব্র তাপদাহ এবং প্রচণ্ড গরমে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে, সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসায় ১শ’টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। যশোর সিভিল সার্জন অফিসের এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, যশোর জেলার ৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও যশোর ২৫০ শয্যা বিশিস্ট জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় এসব হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৪৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু। বয়স্ক নারী ও পুরুষের সংখ্যা খুবই কম। এক সপ্তাহে (৭ দিনে) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩শ’ ৫২ জন ডায়রিয়া রোগী। গত এক মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৫শ’ ২ জন। তাছাড়া গত ১ জানুয়ারি হতে এ পর্যন্ত ৩ মাস ৯ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ১শ’ ৪৭ জন।
পরিসংখ্যানে জানা গেছে, যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘন্টায় ১২ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। এক সপ্তাহে ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে ৬৩ জন। ১ মাসে ৩শ’ ৩৭ জনও চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৭শ’ ৪৪ জন। ডায়রিয়ায় চৌগাছা উপজেলা হাসপাতালে গত ২৪ ঘন্টায় ৪ জন, ৭ দিনে ২৩ জন, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শার্শা উপজেলা ২৪ ঘন্টায় ২ জন ভর্তি হয়েছে। এছাড়া এক সপ্তাহে ১৯ জন ভর্তি হয়েছে। ঝিকরগাছা উপজেলা হাসপাতালে গত ২৪ ঘন্টায় ৭ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। এক সপ্তাহে ৫২ জন ভর্তি হয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা হাসপাতালে ২৪ ঘন্টায় ৪ জন, এক সপ্তাহে ৩৩ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘন্টায় ৬ জন ও এক সপ্তাহে ৪১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘন্টায় ৪ জন ও এক সপ্তাহে ৩৫ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে।
বাঘারপাড়া উপজেলা হাসপাতালে ২৪ ঘন্টায় ১ জন এবং এক সপ্তাহে ৬৮ জন ভর্তি হয়েছে। যশোর সদর উপজেলায় ২৪ ঘন্টায় ৩ জন ও এক সস্তাহে ১৮ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য আইভি স্যালাইনের সংকট না থাকলেও এ রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা কমছে না। বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, প্রচণ্ড গরম ও তাপদাহের কারণে ডায়রিয়ার জীবাণু রোটা ভাইরাসের প্রভাব বেড়ে গেছে। এ কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বেশি গরমের ভেতর শিশুদের না রাখা এবং শরীরে ঘাম আসলে কাপড় দিয়ে ঘন ঘন মুছে দেয়াসহ শিশুদের প্রতি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসরা। পঁচাবাসি খাবার না কাওয়ার জন্য বয়স্কদের পরামর্শ দিয়েছেন। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস জানান, তার জেলায় চিকিৎসকরা তৎপর রয়েছেন। ডায়রিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।