বাজার নিয়ে উদ্বিগ্ন মানুষ

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ।। যশোর বাজারে আলু পেঁয়াজের দাম বাড়ার পর আর কমেনি। নতুন আমন ধান ওঠার মুখে হলেও চালের দাম এ সপ্তাহেও অপরিবর্তিত রয়েছে। সবজির সরবরাহ বাড়লেও এ সপ্তাহে খুব একটা দাম কমেনি। ডিম, মুরগি ও গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভরা বাজারে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে না আসায় ভোক্তারা উদ্বিগ্ন। গতকাল শুক্রবার শহরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়।
বাজারে আলু ও পেঁয়াজের দাম বাড়ার পর আর কমেনি। শুক্রবার বড় বাজারে আলু বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৭০ টাকায়। পেঁয়াজও বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন হিমাগারগুলো থেকে সংরক্ষিত আলুর পরিমান কমে আসছে। এ কারণে দাম বাড়ছে। দেশি ভাতি পেঁয়াজের মজুদ শেষ হয়ে আসছে। আমদানির পরও বাজার স্থিতিশীল হয়নি। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ সামনের মাসে বাজারে আসলে পেঁয়াজের দামও কমে আসবে।
এ সপ্তাহে চালের বাজার অপরিবর্তিত রয়েছে। বাংলামতি চাল মানভেদে প্রতি কেজি ৮৪-৮৬ টাকা, মিনিকেট চাল ৬৪-৬৮ টাকা, কাজললতা চাল ৬৬ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৬০-৬২ টাকা, বিআর-৬৩ চাল ৭০-৭২ টাকা, বিআর-৪৯ চাল ৬০ টাকা, নূরজাহান চাল ৫৪ টাকা ও হীরা চাল ৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বড় বাজারের চাল বিক্রেতা সাখাওয়াত হোসেন জানান, নতুন আমন ধানের চাল বাজারে আসলে দাম কমে আসবে।
গত সপ্তাহে সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা কমে আসার পর এ সপ্তাহে দুয়েকটি ছাড়া আর দাম কমেনি। শুক্রবার বড় বাজারের বিক্রেতা নাসির আলী জানান, তিনি মানভেদে উচ্ছে প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করেছেন, গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ১০০-১২০ টাকা। বেগুন বিক্রি হয়েছে ৮০-৯০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৮০-১০০ টাকা। বাঁধাকপি বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৭০-৮০ টাকা। তাছাড়া অন্যান্য সবজির দাম এ সপ্তাহে কমেনি। টমেটো বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, বরবটি ১০০-১২০ টাকা, ফুলকপি ১২০-১৪০ টাকা, শসা ৭০-৮০ টাকা, করোলা ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০-৭০ টাকা, শিম ১০০ টাকা, পটল ৫০-৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০-৬০ টাকা ও মুলো ৫০-৬০ টাকা। বড়বাজারের আড়তদার জহিরুদ্দিন কাজল জানান, সবজির সরবরাহ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এখন থেকে দাম কমে আসবে বলে তিনি আশা করছেন।
বাজারে ডিম,মুরগি ও গরুর মাংসের দাম এ সপ্তাহে একই রকম আছে। খামারের মুরগির ডিম প্রতি পিস ১২ টাকা, খামারের ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগির কেজি ২৯০ টাকা ও লেয়ার মুরগির কেজি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বড় বাজার কাঠেরপুলেও একই অবস্থা। শহরের প্রায় সব বাজারে গরুর মাংস ৬৫০ টাকা বিক্রি হলেও এখানে বিক্রেতারা ৭০০ টাকার নিচে বিক্রি করছেন না।
শুক্রবার বাজার করতে আসা শহরের বারান্দিপাড়ার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম বলেন, বাজারে সব ধরনের পণ্যের মজুদ পর্যাপ্ত পরিমানে থাকলেও ব্যবসায়ীরা দাম কমাচ্ছেন না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, শহরের সব বাজারে গরুর মাংস ৬৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করলেও কাঠেরপুলের বিক্রেতারা একজোট হয়ে ৭০০ টাকায় বিক্রি করছেন। তিনি সরকারি তদারকি সংস্থাগুলোকে এর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।