যশোরে কিশোর স্বাধীন হত্যা : আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মায়ের সংবাদ সম্মেলন

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে কিশোর তানভীর হাসান স্বাধীন (১৬) হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার মা সুমাইয়া আক্তার। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করেন, চুরির অপবাদ দিয়ে তার ছেলেকে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পরও আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর রাতে যশোর শহরের বারান্দী মালোপাড়া এলাকার একটি মন্দিরসংলগ্ন গলিতে কয়েকজন যুবক স্বাধীনকে আটকে মারধর করেন। খবর পেয়ে তার বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা স্বাধীনকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন তার মা।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বাধীনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ২০ অক্টোবর রাতে তার মৃত্যু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্বাধীন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

সুমাইয়া আক্তার বলেন, গত ২৪ অক্টোবর যশোর কোতোয়ালি থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। মামলা হওয়ার পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন—এমন অভিযোগ তুলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। স্বাধীনের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান নিহতের মা।

মামলার এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন যশোর শহরের বারান্দী মালোপাড়ার রেজা, তার শাশুড়ি ওলি, রনি, রনির বাবা আলী, পার্থ ও নারায়ণ।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনের খালা সুমি, ফুফু সোমা, সীমা ও মামি পান্নাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, কিশোর স্বাধীন হত্যার ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন, তার মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, এজাহারভুক্ত আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।