যশোরে করোনায় মৃত্যু বাড়ছে, সাড়ে ১২ লাখ মানুষ কোনো টিকা গ্রহণ করেনি

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের হার একটু কমলেও মৃত্যুর হার বাড়ছে। রবিবার করোনা আক্রান্ত হয়ে তিনজন ও উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় জেলায় মোট ৬৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ৪৫ জন ও যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসাপাতালের পিসিআর ল্যাবে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন্ট টেস্টে আরও ২০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিভাগের ১১ দফা বিধিনিষেধ কার্যকরে প্রশাসনের ভূমিকা যথেষ্ট নয় বলে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন।
এদিকে করোনাভাইরাস রোধে স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষ থেকে টিকা কার্যক্রম চলমান থাকলেও এখনও পর্যন্ত যশোর জেলার মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১২ লাখ ৬১ হাজার ৫ জন করোনা টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেননি। এসব মানুষকে পর্যায়ক্রমে টিকার আওতায় আনা হবে বলে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ বলছে।
জেলা সিভিল সার্জন অফিসের করোনা সংক্রান্ত মিডিয়া ফোকালপার্সন ডা, মো. রেহনেওয়াজ বলেন, যশোরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা গেছেন। এরা সবাই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আরিফ আহমেদ জানান, হাসপাতালে করোনায় তিনজন ও উপসর্গ নিয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার যশোরে মোট ৬৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসাপাতালে ১০৭ জনের র‌্যাপিড অ্যন্টিজেন্ট টেস্টে ২০ জন ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারের ল্যাবে ১৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৫ জনের শরীরের করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। বর্তমান যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৩৪ জন রয়েছেন। এরমধ্যে রেডজোনে ১৯ জন ও ইয়েলো জোনে ১৫ জন রয়েছেন। এদিকে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগের সূত্রে জানা গেছে, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর প্রথম দিকে শহর অঞ্চলে সংক্রমণের উর্ধ্বগতি দেখা দিলেও পরে গ্রামেও শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেতে থাকে। গ্রাম অঞ্চলের মানুষ উপসর্গকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, যেকারণে নমুনা পরীক্ষা কম হচ্ছে এবং শনাক্তের হারও কম হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিভাগের জারিকৃত ১১ দফা বাস্তবায়নে জেলা পর্যায়ে কোনো প্রশাসনিক তদারকি নেই বললে চলে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে জনসমাগম হয় এমন সব এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই।
জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার মোট ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ৬৩১ জন মানুষের মধ্যে এ পর্যন্ত করোনা টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ২০ লাখ ৫৫ হাজার ৫২ জন ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৮৮৩ জন। এখনও পর্যন্ত ১২ লাখ ৬১ হাজার ৫ জন টিকার কোনো ডোজ গ্রহণ করেননি। এই বিপুল সংখ্যক লোককে পর্যায়ক্রমে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে জেলা সিভিল সার্জন বলেছেন। এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি টিকা গ্রহণের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আমাদের পক্ষ থেকে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। এ বিষয়ে প্রতিনিয়ত মাইকিং করে সচেতন করা হচ্ছে। এর বাইরে জেলাব্যাপী গণটিকা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এরপরও একশ্রেণির মানুষ এখনও টিকা গ্রহণ করেননি। এসব মানুষকে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত আছে এবং থাকবে বলে তিনি দাবি করেন।