যশোরে আ.লীগ ও ছাত্রলীগের ৩ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে এক ঠিকাদারের পুত্রকে অপহরণ এবং অর্ধকোটি টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩ নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে রোববার আদালতে মামলা হয়েছে। শহরের নাজির শংকরপুরের মৃত শেখ আফছার আলীর ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম মামলাটি করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম কিবরিয়া অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডি জোন যশোরের বিশেষ পুলিশ সুপারকে আদেশ দিয়েছেন।

আসামিরা হলেন, মনিরামপুর উপজেলার কাশিমপুর মান্দারতলা এলাকার বাসিন্দা শামীম হোসেন এবং তার ২ ছেলে ইমরান হোসেন ও কামরান হোসেন, যশোর শহরের নীলগঞ্জ সাহাপাড়ার মৃত শাহাদত হোসেন খানের ছেলে মনিরুজ্জামান খান মুকুল ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার আলাইপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম। এর মধ্যে আশরাফুল ইসলাম কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কামরান হোসেন মনিরামপুর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়র ছাত্রলীগের সভাপতি ও ইমরান হোসেন একই ইউনিয়ন যুবলীগ সদস্য।

আনোয়ারুল ইসলাম মামলায় উল্লেখ করেছেন, তিনি প্রথম শ্রেণির একজন ঠিকাদার। ব্যবসায়িক সূত্রে আসামিরা তার পূর্ব পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে টেন্ডারের গাছ ক্রয় করে ব্যবসা করে আসছেন। ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের টেন্ডারে অংশ নিয়ে লটের মাধ্যমে ৩২ লাখ ৯৫ হাজার টাকার গাছ কেটে অপসরাণের কার্যাদেশ পান। এছাড়া তিনি যশোর শহরের শংকরপুর মৌজায় তার ৫৯ শতক জমি ৩ কোটি ৬৮ লাখ ২৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। বিষয়টি আসামি মনিরুজ্জামান খান মুকুল জানতে পেরে অন্য আসামিদের সাথে যোগাযোগ করে চাঁদা আদায়ের ষড়যন্ত্র করতে থাকেন।

একই বছরের ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার ছেলে (আনোয়ারুল ইসলাম) আতাহার শিহাব গাছ কাটার কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নাজির শংকরপুর কোল্ড স্টোরেজ মোড়স্থ আইটি পার্কের গেটের সামনে পৌঁছালে উল্লিখিত আসামিরা অস্ত্রের মুখে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান এবং ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। মুক্তিপণের টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করারও হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া তারা তাকে প্রচ- মারধর করেন। পরে পুত্রকে অনেক খোঁজাখুঁজির আনোয়ারুল ইসলামকে আসামি

মনিরুজ্জামান খান মুকুল জানান, তার পুত্রকে অপহরণ করা হয়েছে। এ জন্য ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। নইলে তাকে হত্যা করা হবে। এ খবর পেয়ে আনোয়ারুল ইসলাম ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে রাজি হন। তখন আনোয়ারুল ইসলাম এবং তার সঙ্গী শামীম হোসেনের চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান মনিরুজ্জামান খান মুকুল। সেখানে যাওয়ার পর আনোয়ারুল ইসলাম তার পুত্রকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। এ

রপর ১৬ এপ্রিল আসামি ইমরান হোসেন ও কামরান হোসেন মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আনোয়ারুল ইসলামের কাছ থেকে ব্যাংকের ৮টি ফাঁকা চেকের পাতায় সই করিয়ে নেন। ওই চেকের পাতা আসামি শামীম হোসেন নিজের কাছে রেখে দেন। এরপর আনোয়ারুল ইসলাম ও তার পুত্র আতাহার শিহাবকে ছেড়ে দেন আসামিরা। পরবর্তীতে ব্যাংক এস্টেটমেন্ট তুলে এনে আনোয়ারুল ইসলাম দেখতে পান, তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৫৪ লাখ টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন আসামিরা। কিন্তু ওই সময় আসামিদের ভয়ে মামলা করতে সাহস পাননি তিনি। কিন্তু বর্তমানে পরিবেশ অনুকূলে হওয়ায় তিনি আদালতে এই মামলা করেছেন।