যশোরে আড়াই মাসে চার দুর্ধর্ষ ডাকাতি কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের সর্বত্র বর্তমানে ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত প্রায় আড়াই মাসে যশোরে ৪টি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার একটিরও কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধার হয়নি লুণ্ঠিত টাকা ও মালামাল। ফলে দিনকে দিন আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। পুলিশি ব্যর্থতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেছেন, তারা জড়িতদের আটকের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর ভোরে যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের সুজলপুরের বাসিন্দা মোকসেদ আলীর বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা চলে। কিন্তু ওই বাড়িতে সিসি ক্যামেরা থাকায় তাদের ডাকাতির চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এর পরদিন ২৫ অক্টোবর ভোরে পাঁচবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ৭/৮ জনের একদল ডাকাত জানালার গ্রিল ভেঙে ঘরে ঢোকে। পরে তারা অস্ত্রের মুখে আব্দুল ওয়াদুদ ও তার ছেলের চোখ ও হাত বেঁধে অর্থ ও সোনার অলঙ্কার লুট করে। ডাকাতরা আব্দুল ওয়াদুদের পুত্রবধূর কাছ থেকে চাবি নিয়ে আলমারি খুলে ও শো-কেসের ড্রয়ার ভেঙে প্রায় সাড়ে ৬ ভরি সোনার অলঙ্কার, নগদ পৌনে ৩ লাখ টাকা, সৌদি ১২শ’ রিয়াল এবং কাপড় চোপড়সহ ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এক মাস পর গত ৯ নভেম্বর গভীর রাতে যশোর শহরতলীর শেখহাটিতে অবস্থিত এসিআই অ্যাগ্রো লিমিটেডের ডিপোতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়। মুখে মাস্ক পরা ৮/১০ জনের একদল ডাকাত মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে দুই জন নৈশ প্রহরীকে বেঁধে রেখে নগদ ২০ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ওই টাকা ছিলো একটি সিন্দুকের মধ্যে। ভাঙতে না পেরে তারা টাকাসহ সিন্দুক নিয়ে যায়।

এ ঘটনার প্রায় দুই মাস পর গত ২৮ ডিসেম্বর বাঘারপাড়া উপজেলার ধুপখালী গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মোহাম্মদ খোকনের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। একদল ডাকাত ক্লপসিবল গেটের তালা ভেঙে ঘরের ভেতর ঢুকে অস্ত্রের মুখে পরিবারের লোকজনকে জিম্মি রেখে নগদ টাকা ও সোনার অলঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। এর এক সপ্তাহের মাথ্য়া গত ৪ জানুয়ারি ভোরে বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম ইউনিয়নের বরভাগ গ্রামের দুই সহোদর পশুপতি দেবনাথ ও বিশ্বানাথ দেবনাথের বাড়িতে পুলিশ পরিচয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা ওই দুই সহোদরের বাড়ি থেকে নগদ ৯৫ হাজার টাকা, সোয়া ২ ভরি সোনার অলঙ্কারসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এই ডাকাতদের কয়েকজনের গায়ে ডিবি পুলিশের সাদৃশ্য কোটি এবং কয়েকজনের গায়ে পুলিশ লেখা জ্যাকেট ছিলো। এছাড়া তাদের কাছে পিস্তল ও ওয়্যারলেস সেট ছিলো।
এদিকে প্রতিটি ডাকাতির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় আলাদা মামলা হয়েছে।

কিন্তু প্রায় আড়াই মাসে ৪টি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও এখনো পর্যন্ত কোনো ডাকাতিতে জড়িত কাউকে শনাক্ত অথবা আটক করতে পারেনি পুলিশ। এ কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে মানুষ। পাশাপাশি পুলিশ কতটুকু দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করছে সেই প্রশ্নও দেখা দিয়েছে সচেতন মহলের মাঝে।

যশোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর ই আলম সিদ্দিকী জানান, তারা ডাকাতির সাথে জড়িতদের আটকের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।