যশোরের ভোলাট্যাঙ্ক রোডে ফের ছিনতাই, আটক দুই

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দৈনিক দিনকালের বিশেষ কর্মকর্তা গোলাম রসুল আন্টু যে স্থানে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন সেই ভোলাট্যাঙ্ক রোড জিলাস্কুল মোড়ে ফের ছিনতাই হয়েছে। রোববার ভোরে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছিলেন আফজাল হোসেন নামে একজন ট্রাকচালক। ছিনতাকারীরা চাকুর ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ২টি মোবাইল ফোনসেট ছিনিয়েও নেয়।

কিন্তু এ সময় তিনি সাহসিকার পরিচয় দিয়ে ধাওয়া করে স্থানীয় জনতার সহায়তায় দুই ছিনতাকারীকে আটক করেছেন। পরে তাদেরকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। আটক দুই ছিনতাইকারী হচ্ছে, শহরের পালবাড়ির পাওয়ার হাউস এলাকার শামিম হোসেনের ছেলে মসফিকুর রহমান ও চাঁচড়া রায়পাড়ার রাজু মোড়লের ছেলে হাসান।

ছিনতাইকারীদের কবলে পড়া ট্রাকচালক আফজাল হোসেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার হারোয়া গ্রামের সালাউদ্দিনের ছেলে। আফজাল হোসেন জানান, শনিবার ভোরে ফজরের আজানের সময় তিনি যশোর শহরের রেলস্টেশন থেকে রিকশায় চড়ে আর এন রোডে যাচ্ছিলেন। পথে ভোলাট্যাঙ্ক রোড জিলাস্কুল মোড়ে পৌঁছালে ৪ ছিনতাইকারী রিকশার গতিরোধ করে। এ সময় তারা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কাছে থাকা ২টি মোবাইল ফোনসেট ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা তার কাছে থাকা টাকা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাকালে তিনি চিৎকার শুরু করেন এবং ছিনতাকারীদের ধাওয়া করতে থাকেন।

ধাওয়া খেয়ে ছিনতাইকারীরা স্টেডিয়ামের পাশে হকার্স মার্কেট এলাকায় গেলে সেখানে উপস্থিত লোকজনও তাদেরকে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ২ ছিনতাইকারীকে আটক করতে সক্ষম হন। অন্য দুই জন পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উত্তম মাধ্যম দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে আটক দুই ছিনতাইকারীর কাছে তার খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোনসেট পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, উত্তেজিত লোকজন যখন আটক দুই জনকে উত্তম মাধ্যম দিচ্ছিলো তখন নাদিম নামে আরেক ছিনতাইকারী পাবলিক সেজে সেখানে এসে উপস্থিত হয়। সেও তাদেরকে কিছুটা মারধর করে ছেড়ে দেওয়ার অথবা পুলিশে দেওয়ার পরামর্শ দেয়। যাতে পিটুনির হাত থেকে ওই দুই ছিনতাইকারী রক্ষা পায়। কিন্তু এরই মধ্যে উপস্থিত এক ব্যক্তি ছিনতাইকারী হিসেবে তাকে চিনতে পারে। বিষয়টি বুঝতে পেরে কৌশলে সেখান থেকে সটকে পড়ে নাদিম।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই জন পলাতকদের নাম প্রকাশ করে। এরা হচ্ছে, রেলগেট পশ্চিম পাড়ার চমন ও বেজপাড়া পানির ট্যাঙ্কি এলাকার আলিম।

এদিকে ঘটনার পরপরই এক ব্যক্তি বিষয়টি অবহতি করার জন্য কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসিকে কয়েক দফা মোবাইল ফোন করেন। কিন্তু তিনি রিসিভ না করায় পরে থানার ডিউটি অফিসারকে মোবাইল ফোনে ছিনতাইকারী আটকের বিষয়টি জানান বলে জানা গেছে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, আটক দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ছিনতাইকারী চক্র গত ২ সেপ্টেম্বর ভোরে দৈনিক দিনকালের বিশেষ কর্মকর্তা গোলাম রসুল আন্টুর কাছ থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ২শ’ টাকা এবং দুইটি দামী মোবাইল ফোনসেট ছিনিয়ে নিয়েছিলো বলে ধারনা করা হচ্ছে।