যশোরের বড়বাজার হাটচান্নি মার্কেটে আগুন, তিন দোকান ভস্মীভূত

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের বড়বাজারের হাটচান্নি মার্কেটে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকান্ডে বাজারের সিটি গোল্ড ও ছিপ-বড়শির সুতার চারটি দোকান পুড়ে গেছে। এর মধ্যে তিনটি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে এবং একটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে অন্তত এক কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রোববার (৫ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে বড়বাজার হাটচান্নি মার্কেটে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। সকালে বাজারে দোকান খুলতে এসে ব্যবসায়ীরা একটি দোকান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো মার্কেটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাসিন্দা এবং সিটি গোল্ড ব্যবসায়ী পারভেজ শেখের দোকানের পাশেই প্রথম আগুনের সূত্রপাত দেখা যায়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পাশের দোকানদার মোহাম্মদ নাঈম বাজারে এসে দোকান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ও আগুনের শিখা দেখতে পান।

পরে তিনি আশপাশের ব্যবসায়ীদের ডাকাডাকি করলে সবাই মিলে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালামের নেতৃত্বে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে তিনটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং আরেকটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সিটি গোল্ড ব্যবসায়ী পারভেজ শেখ। তিনি জানান, তার দোকানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার সিটি গোল্ডের মালামাল ছিল। আগুনে দোকানের কোনো মালামালই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা আরেক সিটি গোল্ড ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার দোকানেও প্রায় ৫০ লাখ টাকার সিটি গোল্ডের মালামাল ছিল। আগুনে পুরো দোকান পুড়ে যাওয়ায় তিনি চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

এদিকে শহরের আশ্রম রোডের বাসিন্দা ছিপ-বড়শির ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম জানান, মাত্র এক মাস আগে নতুন করে মালামাল তুলে তিনি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। আগুনে তার প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। নতুন ব্যবসা শুরু করেই এমন ক্ষতির ঘটনায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন।

আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত সিটি গোল্ড ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাঈম বলেন, তাদের ধারণা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। সকালে দোকান খুলতে এসে ধোঁয়া দেখতে পাওয়ার পরপরই তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

ঘটনার বিষয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত কাজ শুরু করায় আগুন আশপাশের আরও দোকানে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। সময়মতো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণও তদন্ত শেষে নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে যশোর সদর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমান উল্লাহ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।