মোংলা বন্দরে ৮৩টি খাল খননের তিন বছরের মাথায় ফের ভরাট হচ্ছে

0

 

স্টাফ রিপোর্টার,বাগেরহাট ॥ বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের নাব্যতা নিশ্চিত করতে ৮৩টি খাল খননের তিন বছরের মাথায় আবারও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে দ্রুত ভরাট হয়ে যাওয়া ৫৬টি খালের নাব্যতা ঠিক রাখতে একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলের ট্যাঙ্কার ডুবে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর পর মোংলা-ঘাষিয়াখালী নৌ চ্যানেলে নৌযান চলাচলের উপযোগী করতে বিআইডব্লিউটিএর তত্ত্বাবধায়নে খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ৬ মে এ চ্যানেল থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হয়। বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে এ মেগা প্রকল্পটি ৭০৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৬ মাসের মধ্যে খনন কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। চ্যানেলটি সচল রাখতে চ্যানেল সংলগ্ন রামপাল উপজেলার ৫টি নদী ও ৭৮টি খালের ৩১০ কিলোমিটার খননের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৮ সালে। ২০২১ সালে খাল খনন কাজ শেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
অভিযোগ রয়েছে, অপরিকল্পিতভাবে এরপর থেকে প্রভাবশালীদের বাঁধ ও পাটা দিয়ে মাছ চাষ করার ফলে প্রবহমান খালের পানি বাধাগস্ত হয়। যার ফলে প্রতিবছর ১ মিটারের বেশি ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদী ও খাল।
রামপাল উপজেলার তেলীগাতি গ্রামের সাইদুল ইসলাম বলেন, ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ দাউদ খালী নদী নাব্যতা সংকটে এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতা, কৃষি কাজে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়। তবে খননের সময় আমরা এলাকাবাসী খুবই আশাবাদী ছিলাম এলাকায় পানি সংকট কেটে যাবে এবং চাষাবাদে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। কিন্তু তিন বছর যেতে না যেতেই আবারও ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদী ও খাল। আমাদের আশীর্বাদের পরিবর্তের দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে।
মোংলা-ঘাষিয়াখালী নৌ চ্যানেল সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব এসএম সবুর রানা বলেন, মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ প্রটোকল চ্যানেলটি সচল রাখতে রামপালের ৮৩টি খাল খনন কাজ শুরু করে । কিন্তু নানা অনিয়ম ও অপরিকল্পিত ভাবে খনন কাজ করার ফলে আজ হুমকির মুখে পড়ছে। এছাড়া এলাকার প্রভাবশালীরা খনন করা খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার ফলে সরকারের শ শ কোটি টাকার প্রকল্প আজ হুমকির মুখে পড়েছে।
সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, চ্যানেল ব্যবহারে পরিপূর্ণভাবে সুফল পেতে শাখা নদী ও শাখা খালের পাশাপাশি জোয়ার ভাটার প্লাবন ভূমি তৈরি করতে খননের উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে খাল খনন ও অবৈধ ভাবে দেওয়া বাঁধ অপসারণ করে ড্রেজিং ব্যবস্থা চালু রাখার দাবি জানান পরিবেশ সংগঠনের এই নেতা।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মাদ আল বেরুনী বলেন, দ্রুত ভরাট হয়ে যাওয়া ৫৬টি নদী ও খালের নাব্যতা ঠিক রাখতে একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হচ্ছে। রামপালে ৮৩টি খাল খননে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক এ মেগা প্রকল্প ৭০৬ কেটি টাকা বরাদ্দ হয়। পরে ১৭৫ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শেষ করা হয়।