মহম্মদপুরে দুই ভাই হত্যার চাকু খুঁজতে নওয়াপাড়ার নদে পুলিশ

0

স্টাফ রিপোর্টার, অভয়নগর (যশোর)॥ মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় দুই ভাইকে গলাকেটে হত্যার রহস্য উদঘাটনে চাকু খুঁজতে নওয়াপাড়ার ভৈরব নদে নেমেছেন মাগুরা পুলিশের একটি দল। সোমবার সকালে উপজেলার ভৈরব নদের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দলকে নিয়ে রহস্য উদঘাটনে ১টি চাকু খুঁজতে নামে পুলিশ। তিন ঘন্টা অভিযান চালিয়েও ওই দেশীয় চাকুটির সন্ধান মেলেনি। বিষয়টি জানিয়েছেন মাগুরার মহম্মদপুর থানার এসআই শেখ সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, প্রতিবেশী ফারুক শিকদারের ছেলে আশিকুর রহমান গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর শনিবার রাত ৯টার দিকে সবুজ ও হৃদয়কে ডাব খাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদেরকে বাড়ি থেকে একটু দূরে ইছামতি বিলের ঢোকচান্দের মাঠে নিয়ে যান। সেখানে সুবজ ও হৃদয়ের ওপর আশিক ও তার সহযোগীরা অর্তকিত হামলা চালান। প্রথমে হৃদয়কে ধারালো চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। বিষয়টি দেখে বড় ভাই সবুজ চিৎকার করলে তাকেও গলাকেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আশিককে গত ১ জানয়ারি সোমবার আটক করে থানা পুলিশ। আটক করার পর আশিক ঘটনাটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বিস্তারিত জানান। এরপর মামলার ২নং আসামি হেদায়েতকে আটক করে পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক ভৈরব নদের ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে হত্যায় ব্যবহৃত চাকুর সন্ধান করা হয়। এ সময় পুলিশ চাকুটি খুঁজতে নদে নামে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশের এস আই রূপক, অভয়নগর থানা পুলিশের এস আই দেলোয়ার।
ডাব খাওয়ার কথা বলে দুভাই সবুজ ও হৃদয় পানিঘাটা মধ্যপাড়া ঢোকচান্দের মাঠে নিয়ে কয়েকজন মিলে গলা কেটে হত্যা করে। রোববার ভোরে খবর পেয়ে পানিঘাটা গ্রাম থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। নহাটা ইউনিয়নের পানিঘাটা গ্রামের মঞ্জুর মোল্যার ছেলে সবুজ মোল্যা (৩০) ও তার ছোট ভাই হৃদয় মোল্যা (১৪)- কে হত্যার করার পর তাদের বড় ভাই কালাম মোল্লা বাদি হয়ে আশিকুর রহমানকে প্রধান আসামি ও আরও ১০ জনের নামে মামলাটি দায়ের করেন।
মহম্মদপুর থানা পুলিশের এসআই শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক সোমবার সকালে উপজেলার মশরহাটি ভৈরব ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় নৌকা যোগে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দলকে নিয়ে রহস্য উদঘাটনে ১টি চাকু খুঁজতে এসেছিলাম। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও চাকু পাওয়া যায়নি।
অভয়নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাস জানান, মাগুরায় দুই ভাইকে হত্যার ঘটনায় মাগুরা থেকে একটি পুলিশের টিম এসেছিল। ভৈরব সেতু সংলগ্ন এলাকায় নদে ডুবুরি দল দিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে কাজ চলে।