মণিরমপুরে উচ্চ ফলনশীল বেগুন চাষে সাফল্য

0

 

ওসমান গণি, রাজগঞ্জ (যশোর)॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নে আবারও বেগুন চাষে বাম্পার ফলন পেয়ে অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবান হয়েছেন চাষিরা। আকারে বড়, গাছে ধরেও বেশি, দেশি স্বাদ, পোঁকা মাকড়ের আক্রমণ অনেক কম, সার ও কীটনাশকের প্রয়োজনও স্বল্প।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে একটি পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নে ১শ ৭৮ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনসীল জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। ১ হাজার ৬শ ২জন চাষি বেগুন চাষ করেছে। এর মধ্যে রোহিতা ইউনিয়নে ২০ হেক্টর, ঝাঁপা ইউনিয়নে ২৬ হেক্টর, মশ্মিমনগর ইউনিয়নে ১৭ হেক্টর, চালুয়াহাটি ইউনিয়নে ১৫ হেক্টর, হরিহরনগর ইউনিয়নে ২৩ হেক্টর ও খেদাপাড়া ইউনিয়নে ১৪ হেক্টর বেগুন চাষ হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের এ বেগুন চাষ করে বাম্পার ফলনের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবান হয়েছেন এ সকল ইউনিয়নের চাষিরা
উপজেলা বিএডিসি থেকে বীজ সংগ্রহ ও পরামর্শ নিয়ে চাষিরা উচ্চ ফলনশীল জাতের বেগুন চাষ করে দ্বিগুন ফলন পেয়েছেন। হাইব্রিড জাতের এ বেগুন স্বাদ ও পুষ্টিতেও ভরপুর। প্রতিবিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের বেগুন চাষ করে লাখ টাকা আয় করা সম্ভব বলে সূত্র জানায়। ক্রেতারা বলছেন, অত্যান্ত সুস্বাদু এ বেগুন বিষমুক্ত হওয়ায় দিনদিন হাট-বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। এছাড়া সারা বছরই উচ্চ ফলনশীল এ জাতের বেগুন চাষ হওয়ায় স্থানীয় চাষিরা এ বেগুন চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।
উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের দোদাড়িয়া গ্রামের চাষি আব্দুল মজিদ জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে এবার উচ্চ ফলনসীল জাতের এ বেগুন চাষ করেছিলেন। গত ছয় মাসে তার জমি থেকে ৪ থেকে ৫ মেট্রিকটন বেগুন উত্তোলন করেছেন। এ বেগুন তিনি বৃহত্তর বাণিজ্যিক শহর রাজগঞ্জ হাটে বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা আয় করেছেন। তার বেগুন ক্ষেতের প্রতিটা গাছে এখনও ঝুলছে বেগুন। এক একটি বেগুনের ওজন প্রায় ৩শ থেকে ৪শ গ্রাম। বিষমুক্ত হওয়ায় উচ্চ ফলনশীল জাতের এ বেগুনের হাট-বাজারে চাহিদা ও ব্যাপক।

উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কৃষি কর্মকর্তা তবিবুর রহমান জানান, বেগুন সবজি হিসেবে খুবই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু একটি সবজি। উচ্চ ফলনশীল জাতের এ বেগুন সঠিক নিয়মে চাষ করলে ব্যাপক ফলন পাওয়া যায়।