ভিডিও ফুটেজের মুঠোফোনেই মিলল বিএনপি নেতা কামরুল হত্যার ক্লু

0
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া সেই মুঠোফোন, যা ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে মূল ভূমিকা রাখে।। এআই জেনারেটেড প্রতীকী ছবি

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় গুলশান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল আহসান সাধন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কোনো সূত্র না থাকা এই লোমহর্ষক খুনের কিনারা হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজে এক সন্দেহভাজনের হাতে থাকা মুঠোফোনের সূত্র ধরে। ইন্টারনেট ব্যবসা, কাঁচাবাজারে চাঁদাবাজি এবং এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদী হাসানের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে মধ্য বাড্ডার গুদারাঘাটে আড্ডারত অবস্থায় কামরুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর কোনো ক্লু না পেয়ে কয়েক কিলোমিটার এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু করে ডিবি। একটি ফুটেজে সন্দেহভাজন চারজনের মধ্যে একজনের হাতে থাকা মুঠোফোনের পেছনের অংশ দেখে তার মডেল শনাক্ত করেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। সেই মডেলের ফোন ব্যবহারকারীদের তালিকা ধরে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে মিজানুর রহমান মীমের নাম। মীমকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে খুনের পুরো পরিকল্পনা।

তদন্তে জানা যায়, খুনের মিশন সফল করতে ৩০ হাজার টাকায় ভাড়া করা হয়েছিল হৃদয় ও মুন্না নামের দুই যুবককে। হত্যার আগে তারা গুলশানের একটি দোকানে বিরিয়ানি খেয়ে শক্তি সঞ্চয় করে এবং পরে জাহিদ নামের এক সহযোগীর বাসায় অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। ডিবি জানায়, খুনিরা শনাক্তকরণ এড়াতে সাথে ফোন না রাখলেও তদারকিতে থাকা মীমের একটি ভুলই পুরো রহস্যের জট খুলে দেয়। এই মামলায় এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জাহিদ নামের আরেক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।