ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ইন্তেকাল, শ্রদ্ধায় সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম আধাবেলা বন্ধ

0
দেশের সংসদীয় ইতিহাসের অন্যতম অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ, সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, যিনি ৯৪ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, সাবেক মন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন। ২০২৬ সালের ১২ জুলাই, রোববার ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান সংবাদমাধ্যমকে তাঁর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগসহ উভয় বিভাগের কার্যক্রম অর্ধবেলা (দিনের দ্বিতীয় ভাগ) বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আজ আপিল বিভাগের চেম্বার জজ কোর্টের কার্যক্রমও সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলে সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। শায়রুল কবির খান জানান, মরহুমের জানাজা তিন দফায় অনুষ্ঠিত হবে—প্রথমে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে, এরপর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে এবং সবশেষে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে।

১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার নয়াবাড়িতে জন্মগ্রহণ করা জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ১৯৬০ সালের ২৭ মে আইন পেশায় যুক্ত হওয়া এই প্রবীণ আইনজ্ঞ সংবিধান ও প্রশাসনিক আইনে অনন্য দক্ষতার পরিচয় দেন। তিনি ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন দিনাজপুর-১ আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯১ সালে ঢাকা-৯, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুনের নির্বাচনে পঞ্চগড়-১, এবং সর্বশেষ ২০০৯ সালে বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের বিজয়ের পর তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ২৮ অক্টোবর ২০০১ থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক সংঘাত ও বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সংসদ বর্জনের প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি সংসদীয় বিধি ও রুলিংয়ে আইনি যুক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে সংসদ সচল রাখার চেষ্টা করেন। তাঁর কার্যকালে স্থায়ী কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য নজির স্থাপন করেন ২০০২ সালের ২১ জুন, যখন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কোনো রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়িয়ে প্রায় আড়াই মাস রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ সালে নতুন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মদের শপথ গ্রহণ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন ও ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি দেশের সংসদীয় কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন।