সয়াবিন তেলের বাজারে হারিয়ে যাচ্ছে সবজি কেনার স্বস্তি

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ।। বাজারে সবজির স্বস্তি হারিয়ে যাচ্ছে সয়াবিন তেল কিনতে গিয়ে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট এখনও কাটেনি। তবে বাড়তি মূল্যে খোলা সয়াবিন তেল মিলছে ঠিকই। শীতকালীন সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত হওয়ায় এ সপ্তাহে দাম আরও খানিকটা কমেছে। কমেছে আলু ও পেঁয়াজের দাম। তবে  শীত মৌসুমে নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে খামারিরা মুরগির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে শুক্রবার যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেল ও খোলা সয়াবিন তেলের লিটারে ৮ টাকা করে বাড়িয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৭৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের লিটার ১৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু নতুন বর্ধিত দামে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ খুবই কম। তবে দোকানিরা খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ১৮৫ টাকায় বিক্রি করছেন। জানা যায়, অধিক লাভের আশায় বোতল থেকে ঢেলে বেশি দামে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন দোকানিরা।
শুক্রবার বাজার করতে আসা ক্রেতা বারান্দিপাড়ার বাসিন্দা শামসুল হক জানান, তিনি বোতলজাত সয়াবিন তেল দোকানে পাননি, তবে খোলা সয়াবিন তেল কিনেছেন ১৮৫ টাকা কেজি দরে। অথচ সরকার গত ৯ ডিসেম্বর খোলা সয়াবিন তেলের লিটার ১৫৭ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেখানে লিটার থেকে কেজিতে রূপান্তরে ১০ টাকা বাড়তি অর্থাৎ ১৬৭ টাকা হতে পারে। দোকানি ১৮ টাকা খোলা সয়াবিন তেলে বেশি দাম নিচ্ছেন।
মেঘনা গ্রুপের ‘ফ্রেশ’ সয়াবিন তেলের যশোরের টেরিটোরি ম্যানেজার রবিউল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, তাদের কোম্পানির নতুন বর্ধিত দামের বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে, তবে তা খুব সামান্য। তিনি আশা করছেন যশোরের বাজারে আগামী সপ্তাহে তাদের নতুন বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ বেড়ে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
শীতের শুরুতে পিকনিক ও বিয়েসহ নানা ধরনের সামজিক অনুষ্ঠানে মুরগির চাহিদা বেড়েছে। এই সুযোগে খামারিরা মুরগির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বড় বাজারে শুক্রবার লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩৩০ টাকা, সোনালি মুরগির কেজিতে এ সপ্তাহে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৩১০ টাকা ও ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা। বড় বাজারের মুরগি বিক্রেতা আবুল হাশেম জানান, শীতে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিদের কাছ থেকে বেশি দাম দিয়ে মুরগি কিনতে হচ্ছে। এ কারণে খুচরা বাজারে খামারের মুরগির দাম বেড়েছে।
তবে সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়ে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। শুক্রবার বড় বাজারে বাঁধাকপি প্রতি কেজি ২০ টাকা, ঢেঁড়স ২০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, শিম ৩০ টাকা, পেঁয়াজের কালি ৪০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা, শসা ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
এদিকে বাজারে শীতকালীন মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও নতুন আলুর সরবরাহ বেড়ে এ সপ্তাহে দামও কিছুটা কমেছে। শুক্রবার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৯০ টাকা, আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা, নতুন আলু ৬০ টাকা, পুরাতন আলু ৭০ টাকা ও কাঁচামরিচ ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
বড় বাজারের আড়তদার নিতাই সাহা জানান, পুরাতন আলুর মজুদ শেষের পর্যায়ে, দেশি পেঁয়াজের অবস্থাও একই। তবে বাজারে শীতকালীন নতুন আলু ও মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ছে। তিনি আশা করছেন সামনের সপ্তাহে আলু পেঁয়াজের দাম আরও কিছুটা কমতে পারে।