মাদারীপুরে মহিলা মাদরাসায় ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৫ শিক্ষার্থী

0
মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি মহিলা মাদরাসায় পড়ে থাকা পরিত্যক্ত ককটেল বিস্ফোরণে ৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজনকে ঢামেকে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্তে কাজ করছে পুলিশ, র‌্যাব ও সিআইডি।। ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি মহিলা মাদরাসায় পরিত্যক্ত ককটেল বিস্ফোরণে অন্তত ৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে এক শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কালকিনি পৌর এলাকার গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদরাসায় এ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

বিস্ফোরণে আহত শিক্ষার্থীরা হলো— কালকিনি পৌরসভার মিনাজদী এলাকার সেলিম তালুকদারের মেয়ে আবিদা আক্তার (১১), পশ্চিম মিনাজদী এলাকার ছিরাতুল তালুকদারের মেয়ে জান্নাত (১২), গোপালপুর এলাকার রুবেল মাতুব্বরের মেয়ে তাসমিয়া আক্তার (১১), একই এলাকার শাহিন সরদারের মেয়ে মিনহা (১১) এবং সুলতানা (১১)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও শিক্ষার্থীরা গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদরাসায় আসে। ক্লাসে ও ভবনে প্রবেশ করতেই সিঁড়ির পাশে থাকা একটি ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অন্তত ৫ শিক্ষার্থী আহত হয়। স্থানীয়রা ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢামেকে স্থানান্তরিত করা হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মাদরাসার মুহতামিম হাফিজুর রহমান বলেন, “মাদরাসায় হঠাৎ বোমা বিস্ফোরণে আমরা আতঙ্কিত। কীভাবে এটি ঘটেছে আমরা এখনো তা বুঝতে পারছি না।”

ঘটনার পরপরই কালকিনি থানা পুলিশ, র‌্যাব ও সিআইডি সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানান, “ঘটনার কারণ ও নেপথ্যের রহস্য অনুসন্ধানে পুলিশ, র‌্যাব ও সিআইডিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।”

বিস্ফোরণের ধরন ও কারণ ব্যাখ্যা করে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ, সদর ও কালকিনি সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, “মাদরাসার ভেতরে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে, এটি বাইরে থেকে কেউ নিক্ষেপ করেনি। জর্দার কৌটা বা টেনিস বলের মতো দেখতে বস্তুটি গতকাল থেকেই মাদরাসার সিঁড়ির পাশে পড়ে ছিল, হাতে নিয়ে বাচ্চারা নড়াচড়াও করেছে। সকালে হঠাৎ বিস্ফোরণে ৫ শিক্ষার্থী আহত হয়।”