বেনাপোলের দ্বীন ইসলাম খুনের ২ বছর পর মামলা, তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ আসামি ১৬

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দুই বছর আগে বেনাপোলের কাগামারি আমড়াখালীতে দ্বীন ইসলাম নামে এক ব্যক্তি খুনের ঘটনায় সোমবার আদালতে মামলা হয়েছে। নিহতের ভাই আমীর আলী ৩ পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলাটি করেছেন। নিহত দ্বীন ইসলাম বেনাপোল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রহমত আলী অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ওসিকে আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী নাসির উদ্দীন।
আসামিরা হলেন, বেনাপোল পোর্ট থানার সাবেক এসআই সোহেল, এসআই শংকর, এসআই তৌফিক, কাগমারী আমড়াখালি গ্রামের মৃত নুর আলমের ছেলে শফিকুল ইসলাম, আবুল কালামের ছেলে রুবেল হোসেন, শাহ আলম ও তার ছেলে শাহিন, মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে সাজু, মৃত আবুল খায়েরের ছেলে কবির হোসেন, মৃত সুন্দর আলীর ছেলে হোসেন আলী, আকবর আলীর দুই ছেলে হারুন ও হানিফ, হানিফের ছেলে সজল, গোলাম মোস্তফার ছেলে আরিফুল এবং মৃত নুর ইসলামের দুই ছেলে বিল্লাল হোসেন ও ইউসুফ।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় বেনাপোলের আমড়াখালি মোড়ে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারণে দুই গ্রুপের ভেতরে ব্যাপক মারামারি হয়। এ সময় নুর আলম নামে এক ব্যক্তি জখম হন। কিন্তু খবর ছড়িয়ে পড়ে নুর আলম মারা গেছেন। তখন মামলায় উল্লিখিত আসামিরা (আওয়ামী লীগের কর্মী) ঘটনার সাথে বিএনপির সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন ভুল ধারণা বশবর্তী হয়ে কাগমারী আমড়াখালীতে নিজ বাড়ির সামনে পেয়ে দ্বীন ইসলামকে কুপিয়ে, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন। সেখানে উপস্থিত আসামি এসআই সোহেল, এসআই তৌফিক ও এসআই শংকর হত্যার জন্য তাদেরকে উসকানি ও ইন্ধন দেন। ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তি দ্বীন ইসলামকে রক্ষার জন্য এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করেন আসামিরা। এরপর আসামিরা এলাকার আলী, সাদেক ও মুক্তারের বাড়িতে বোমা হামলা, ভাঙচুর এবং গরু, গহনা, ফ্রিজ, টিভি, আসবাবপত্র লুট করে নেন। তারা ঘরে আগুন ধরিয়ে দিলে বাড়ির লোকজন প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যান। এ সুযোগে আসামিরা নিহত দ্বীন ইসলামের লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশের একটি বাগানে নিয়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে অনেক খোঁজাখুঁজি করে ঘটনার ৩ দিন পর বাগানের ভেতর মাটিচাপা দিয়ে রাখা দ্বীন ইসলামের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই তিন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এলেও অন্য আসামিদের প্ররোচণায় ফিরে যান। কিন্তু হত্যার ঘটনায় ওই সময় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। বর্তমানে পরিবেশ অনুকূলে হওয়ায় নিহতের ভাই আমীর আলী আদালতে এ মামলা করেছেন।