যশোরে পৈতৃক জমি দখলচেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার চাউলিয়া মৌজায় পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন হেলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন হেলাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, যশোর সদর উপজেলার চাউলিয়া মৌজার ৯২৫ নম্বর খতিয়ানের এসএ ৫৫৪ দাগে তাদের মোট সাত শতক পৈতৃক জমি রয়েছে। তার দাদা মৃত মকসেদ আলী বিশ্বাস জীবিত থাকাকালে ৬২৯০ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ইউনুচ আলী মোল্লার কাছে ওই জমির ২ দশমিক ২৫ শতক বিক্রি করেন। দাদার মৃত্যুর পর বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে তাঁরা অবশিষ্ট জমি ভোগদখল করে আসছেন।

হেলাল হোসেনের অভিযোগ, স্থানীয় ইমদাদুল ইসলাম টুটুল, তার বড় ভাই মেহেদি হাসান বাবু ওরফে বোতল বাবু, চাচা মুনতাজ গাজী, হায়দার গাজী ও নিজাম গাজীসহ তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ অক্টোবর তাঁরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন এবং সেখানে ঘরবাড়ি বা সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

এ সময় বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন এবং জমি ছেড়ে না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। হেলাল হোসেন আরও বলেন, অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মেহেদি হাসান বাবু। তার দাবি, সংবাদ সম্মেলনে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ওই সম্পত্তি নিয়ে তিনি আদালতে মামলা করেছিলেন এবং দেড় বছর আগে আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

মেহেদি হাসান বাবু বলেন, “আদালতের সেই রায় অনুযায়ী এবং পুলিশের অনুমতি নিয়েই সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তার ভাষ্য, হঠাৎ করে কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমি নিজেদের বলে দাবি করে মামলা করেছেন, যা আইনগতভাবে টিকবে না।

সংবাদ সম্মেলনে মমতাজ আলী বিশ্বাস, সৈয়দা রেহানা পারভীন, মিতা খাতুন, রোকেয়া বেগম, সাথী আক্তার ও ফরিদা বেগমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।