যশোর করোনারি কেয়ার ইউনিট পূর্ণাঙ্গ রূপদানে ২৪ পদে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন

0
ছবি: লোকসমাজ।

মাসুদ রানা বাবু ॥ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে যশোরের একমাত্র হৃদরোগ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান করোনারি কেয়ার ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গ রূপদান কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয় ২৪টি পদে অর্থ বরাদ্দের সম্মতি দিয়েছে। অর্থ বিভাগের উপসচিব শুক্লা সরকার (স্মারক নম্বর: ০৭.০০.০০০০.০০০০.১৫৬.১৫.০১৫৪.২২.৫১৬) এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর মাধ্যমে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলামের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানটি, তারই পুত্র—দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের হাত ধরে পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, যশোরে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট স্থাপনে আরেকটি ধাপ অগ্রগতি। আল্লাহর রহমতে আগামী বছর জুনের আগেই পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর প্রস্তুতি চলছে।”

অনুমোদিত মোট ২৪টি পদের মধ্যে ১৫টি স্থায়ী ক্যাডার এবং ৯টি পদ বছর বছর সংরক্ষণের ভিত্তিতে নির্ধারিত। স্থায়ী পদের মধ্যে রয়েছে সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ১টি, সিনিয়র কনসালটেন্ট (এনাস্থেসিয়া) ১টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ২টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনাস্থেসিয়া) ১টি, সহকারী রেজিস্ট্রার ১টি, এ্যানেসথিউটিস্ট ১টি এবং মেডিকেল অফিসার ৮টি। বাকি ৯টি পদের মধ্যে রয়েছে নার্সিং সুপারভাইজার ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) ২টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) ১টি, ফার্মাসিস্ট (ডিপ্লোমা) ১টি, কম্পিউটার অপারেটর ১টি, স্টোর কিপার ১টি, ফার্মেসি সহকারী ১টি এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ১টি।

এই অনুমোদনের ফলে যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত হৃদরোগ চিকিৎসা সেবা পাওয়ার পথ আরও সুগম হলো। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে মরহুম তরিকুল ইসলাম দলটির তৎকালীন চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করেছিলেন, যা ছিল যশোরের স্বাস্থ্য খাতের মাইলফলক।

সে সময় ভবন নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের কাজ শেষ হলেও পরবর্তী সময়ে ইউনিটটি আর চালু করা হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিগত সরকার গুরুত্বপূর্ণ এই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত রেখেছিল। অবশেষে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের আন্তরিক উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে চলেছে। এর মধ্য দিয়ে স্থানীয়বাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর একটি নির্বাচনী অঙ্গীকারও বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এ বিষয়ে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুসাইন সাফায়াত বলেন, “প্রতিমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় করোনারি কেয়ার ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ রূপদানের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আশা করছি আগামী তিন মাসের মধ্যে যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ শেষ হবে। ইতিমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের অন্যান্য কার্যক্রমও শুরু হয়ে গেছে।”