বিধিনিষেধ কেবল দড়াটানায়!

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে কঠোর বিধিনিষেধ পালিত হচ্ছে যশোর শহরের দড়াটানা মোড়ে। এ মোড়ের উত্তর প্রান্তে সরকারি-বেসরকারি বহু হাসপাতাল থাকায় মানুষ ও যানবাহনের ভিড় বেশি। কড়াকড়ির কারণে তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অথচ, শহরের অন্যান্য স্থানে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই যানবাহন ও পথচারীরা নির্বিঘেœ চলাচল করছে। এ নিয়ে যেন কারো মাথা ব্যথা নেই।
সাম্প্রতি যশোরে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় করোনা প্রতিরোধ কমিটি সংক্রমণের তীব্রতা ঠেকাতে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে। সর্বশেষ মন্ত্রীপরিষদ গতকাল ২৮ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। উপসচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে দেশব্যাপী পণ্যবাহী যানবাহন ও রিক্সা ব্যতীত সকল গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। সকল শপিং মল মার্কেট পর্যন্ত কেন্দ্র রিসোর্ট কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। খাবারের দোকান, হোটেল-রেঁস্তোরা সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি করতে পারবে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠানসমূহ শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা/কর্মচারী উপস্থিতি নিজ নিজ অফিসের ব্যবস্থাপনায় আনা-নেয়া করতে হবে। কিন্তু গতকাল সোমবার অন্যান্য দিনের মত শহরের দড়াটানা মোড়ে পুলিশ চারিদিকে ব্যারিকেড দিয়ে মানুষ চলাচল সীমিত ও যান চলাচল বন্ধ রাখে। অথচ শহরের প্রতিটি রাস্তায় ও মোড়ে মোড়ে মানুষের ব্যাপক উপস্থিত লক্ষ্য করা যায়। কোন কোন স্থানে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে চায়ের দোকানে লোকজনের আড্ডা দিতে দেখা গেছে। আবার কোথাও লুকোচুরি করে চায়ের দোকান খোলা রেখে পাশে ক্রেতা দাঁড় করিয়ে চা বেঁচতে দেখা গেছে। ঠিক একইভাবে শহরের বিভিন্ন স্থানে দোকান সার্টার টেনে বেচা কেনা করতে দেখা গেছে। এভাবে লুকোচুরি করে মটরপার্টস, স্যানিটারি, ইলেকট্রনিক্স, ফাস্টফুড, মুদি দোকান চালাতে দেখা গেছে। অনেক দোকানের দোকানী ও কর্মচারীদের খরিদ্দারের অপেক্ষায় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। শহরের পাড়া-মহল্লার চিত্র ছিল আরও বেপরোয়া। সেখানে কেউ বিধি-নিষেধ মানেনি। এদিকে, সরকারি-বেসরকারি অফিসের কার্যক্রম সীমিত, আদালত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বন্ধ থাকার পরও শহরের সড়কগুলোতে মানুষের চলাচল ছিল স্বাভাবিক সময়ের মত। ইজিবাইক না পেয়ে পরে হেঁটে চলাচল করেছে মানুষ। আবার মোটরসাইকেলে দুইজন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চলাচল করতে দেখা গেছে। শহরের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে মোটরচালিত ভ্যান চলেছে। গতকাল সোমবার মুজিব সড়ক, রাজা বরদাকান্ত সড়ক, রবীন্দ্রনাথ সড়ক, এমএম আলী সড়ক, জেল রোড, রেল রোড, শহীদ মসিয়ুর রহমান সড়ক, খড়কি রায়পাড়া, ঘোপ, খালধার রোডে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ইজিবাইক রিক্সা চলাচল করেছে।
এদিকে, শহরের পাড়া-মহল্লার সড়কগুলোতে যান চলাচল ঠেকাতে প্রশাসন বাঁশ বেঁধে যে ব্যরিকেড দিয়েছিল, অনেক স্থানে তা সরিয়ে লোকজন চলাচলের জন্য মুক্ত করে দিয়েছে। এমন ঢিলেঢালা অবস্থার মধ্যে কঠোর বিধি-নিষেধ কেবলমাত্র দড়াটানা মোড়ে পালিত হচ্ছে। সেখানে পুলিশের নজরদারির কারণে কেউ বিধিনিষেধ অমান্য করতে পারছে না। কেবলমাত্র রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে।