বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকেই হতে পারেন নতুন রাষ্ট্রপতি

0
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে? আলোচনায় মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা, সংক্ষিপ্ত হচ্ছে সম্ভাব্য তালিকা ।। ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের পর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম তৎপরতা শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কে আসছেন—তা নিয়ে জোর জল্পনা-কল্পনা চলছে।
সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রের ভাষ্যমতে, সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাটি এখন অনেকটাই সংক্ষিপ্ত হয়ে এসেছে এবং দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের নাম আলোচনায় ছিল। পরবর্তী সময়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও যুক্ত হয়। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম জোরালোভাবে সামনে এসেছে।

রাজনীতি ও নাগরিক সমাজের একাংশ মির্জা ফখরুল ইসলামকে এই পদের জন্য যোগ্য বলে মনে করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও ব্র্যাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে সর্বোত্তম প্রার্থী হিসেবে মতামত প্রকাশ করেছেন। আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার দুঃশাসনকালে দলের হাল ধরা, ত্যাগ স্বীকার এবং সংযত ও মার্জিত আচরণের জন্য মির্জা ফখরুল এগিয়ে রয়েছেন।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাঁদের মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হবেন তা প্রায় নিশ্চিত। আপাতত সাংবিধানিক নিয়ম মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, রাজনীতির গতিপ্রকৃতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক মনোনয়নের পরেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।