ফ্যাসিস্টমুক্ত দেশে নির্বিঘ্নে কর্মসূচি পালন বিএনপির

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দীর্ঘ ১৬ বছর পর শঙ্কাহীন পরিবেশে বিজয় দিবস উদযাপন করলো যশোর বিএনপি। দলের নেতারা বলেন, ৫ আগস্টের বিজয় একাত্তরের বিজয়কে মুক্ত করার সুযোগ করে দিয়েছে।
বিএনপি নেতা-কর্মীরা জানান, বিগত ১৬ বছরে বাংলাদেশের বিজয়টাকে ছিনিয়ে নিয়েছিল ফ্যাসিস্টরা। তারা মুক্তিযুদ্ধের মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ারউর রহমানের নামটা পর্যন্ত উচ্চারণ করতে দেয়নি। এ সময়ে নানা বিধিনিষেধের মধ্যে বিজয় দিবস উদযাপন করতে হয়েছে। ভিন্ন মতের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর পক্ষে জাতীয় দিন পালন সহজ ছিল না। মিথ্যা অভিযোগের গায়েবী মামলায় জর্জরিত নেতা-কর্মীদের পক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জাননোর সুযোগ ছিল না। অনেকটা লুকিয়ে লুকিয়ে পালন করতে হয়েছে।
যশোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর বলেন, বিগত ১৬ বছর আমরা নির্যাতিত ছিলাম। জাতীয় দিবসগুলোতেও আমাদের অংশ নিতে দেয়া হতো না। অধিকাংশ বিজয় দিবসে আমাদের জেলে থাকতে হয়েছে। যদিও কখনও বাইরে থেকেছি তখন সতর্ক হয়ে বিজয় স্তম্ভে আসতে হতো। ফ্যাসিবাদের বিদায় হওয়ায় মুক্তশ্বাস নিতে পারছি। জানাতে পারছি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের মূল চেতনা-ই ছিল একটি উদার ও সহনশীল রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন করা। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের মূল চিন্তাকে ভ-ূলুণ্ঠিত করে দমবন্ধ করা এমন এক পরিবেশের সৃষ্টি করা হয়েছিল মাত্র এক ব্যক্তির নির্দেশে। যে কারণে সেই ফ্যাসিবাদের বিদায় হওয়ায় শুধু বিএনপি নয়, জুলুমের শিকার সব শ্রেণি পেশার মানুষ নির্বিঘ্নে বিজয় দিবস পালন করতে পেরেছে।
দলটির জেলা শাখার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, বিগত সময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধকে এককভাবে বাঙালির বিজয় বলে প্রচার করে সবার অর্জনকে কুক্ষিগত করা হয়েছিল। এবারের বিজয় দিবস আওয়ামী লীগের একাধিপত্য থেকে মুক্ত। ৫ আগস্টের বিজয় একাত্তরের বিজয়কে মুক্ত করার সুযোগ করে দিয়েছে। এজন্য মানুষ আজ প্রাণখুলে বিজয় দিবসকে উদযাপন করতে পারছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ যাতে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য জাতি হিসেবে আমাদের সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
মহান বিজয় দিবসের দিন সোমবার সকাল আটটায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়।
পরে জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের নেতৃত্বে বের হয় বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রা। নেতৃবৃন্দ বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে যেয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


চৌগাছা উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে বিজয় শোভাযাত্রা বের হয়। এসময় পুরাতন কোটচাঁদপুর বাসস্টান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আলোচনা করেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও চেম্বার এন্ড কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খাঁন। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও অ্যাড. আলীবুদ্দিন খান, সাবেক কাউন্সিলর আনিছুর রহমান প্রমুখ।
আলোচনা শেষে বিশাল এক বিজয় শোভাযাত্রা বের হয়। এতে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী অংশ নেয়। র‌্যালিটি বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে বাসস্ট্যান্ডে এসে শেষ হয়।


স্টাফ রিপোর্টার, অভয়নগর (যশোর) জানান, যশোরের অভয়নগর থানা ও নওয়াপাড়া পৌর বিএনপি মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সকালে নওয়াপাড়া রেল স্টেশন চত্বরে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অভয়নগর থানা বিএনপির সভাপতি ফারাজী মতিয়ার রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি আবু নঈম মোড়ল, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী গোলাম হায়দার ডাবলু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মোল্লা, থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবর রহমান প্রমুখ।

রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, দীর্ঘ ১৬ বছর পরে রামপাল উপজেলা বিএনপি বিজয় র‌্যালি করেছে। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকাল ৪ টায় উপজেলার খুলনা-মোংলা মহাসড়কের ফয়লাহাট এলাকায় এ বিরাট বিজয় র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।
বিজয় র‌্যালিতে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবে তারুণ্যের বিজয় অর্জিত হয়েছে। এ অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে ৩১ দফার যে রূপরেখা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করতেই হবে।
রামপাল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোস্তফা কামাল পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে র‌্যালি উত্তর সবুজকুড়ি কিন্ডারগার্টেনের সবুজ চত্বরে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোড়ল লুৎফর রহমান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. আলতাফ হোসেন বাবু, উপজেলা বিএনপির সদস্য মোড়ল মাহাতাব আলী, সদস্য মাষ্টার মুজিবর জোয়ার্দার, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মল্লিক জিয়াউল হক জিয়া, উজলকুড় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলাম বাবলা, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কাজী অজিয়ার রহমান, উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মনি, উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি আব্বাস আলী, উজলকুড় ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল, বাগেরহাট জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য মোড়ল আক্তারুজ্জামান, রামপাল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মোল্লা তরিকুল ইসলাম শোভন, মোফাজ্জল হুসাইন বাদল, পল্লব হোসেন রাজু প্রমুখ।