প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে, পদার্থ বিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর: শিক্ষামন্ত্রী

0
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ।। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
এইচএসসি ও সমমানের পদার্থ বিজ্ঞান (প্রথম পত্র) বিষয়ের প্রশ্নপত্রের ভুল থাকা দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে এবং যেসব কেন্দ্রে দুর্যোগের কারণে সমস্যা হয়েছে, প্রয়োজনে সেখানে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে। এমন আশ্বাস দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির মধ্যে আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে আলাদা দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা নিয়ে সরকার নিজেই উদ্বিগ্ন। পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “ওই দুটি প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। আমরা দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র চার মাস আগে। প্রশ্ন মডারেশনের প্রক্রিয়া দুই বছর আগে থেকে শুরু করতে হয়, তাই আমরা এসে নতুন প্রশ্ন প্রস্তুত করতে পারিনি। বিগত সরকারের সময় যাঁরা মডারেটর ছিলেন, তাঁরাই এই প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করেছেন।”

বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষার প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “শিক্ষার্থীরা আমাদের জাতির ভবিষ্যত, তাদের আমরা বঞ্চিত করব না। আমরা আশ্বাস দিচ্ছি, যেসব পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুলত্রুটি হয়েছে, সেখানে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিধান রয়েছে। জরিপ আসার পরে প্রয়োজনে আমরা পুনরায় পরীক্ষা নিতে পারি।” কোনো কেন্দ্রে পানি উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র সরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেই পরীক্ষা বহাল রাখা হয়েছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছিল যে আর বৃষ্টি হবে না। তবে গতকাল সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে পানি ওঠায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রে নেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী জানান, যে ছাত্রীর কাপড় ভিজে গিয়েছিল তার বাড়ি থেকে কাপড় এনে দেওয়া হয়েছে এবং তাকে এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা দেওয়াসহ পরীক্ষার সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

সংসদের অন্য এক প্রশ্নে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার কওমি মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৫৬৯টি (শিক্ষার্থী ৯৯ লাখ ৫৮ হাজার ২৪৬ জন), কিন্ডারগার্টেন ৩২ | হাজার ৬৬৩টি (শিক্ষার্থী ৬০ লাখ ৮৯ | হাজার ৩১৩ জন), সংযুক্ত এবতেদায়ি মাদ্রাসা নয় হাজার ২৯৫টি (শিক্ষার্থী প্রায় ১৫ লাখ) এবং স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা সাত হাজার ৫২৮টি (শিক্ষার্থী প্রায় ১০ লাখ) রয়েছে।