পাতে আস্ত খাসি পেয়ে নতুন কনেকে বিয়ে করলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই প্রবাসী

0
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা নতুন বধূ জান্নাতুল ফেরদৌস আক্তারের সঙ্গে বর জুনায়েদ মিয়ার ছবি।। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের ভোজে পাতে আস্ত খাসি না রাখায় কথা-কাটাকাটির জেরে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর একই দিন রাতে অন্য কনেকে বিয়ে করেছেন আলোচিত সেই জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়া।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) রাত ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে নতুন কনের মামার বাড়িতে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়ার সঙ্গে আখাউড়ার তোলাতলা গ্রামের সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে রাশেদা আক্তারের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল।

বরপক্ষ কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর খাবারের আয়োজনে বরের জন্য আস্ত খাসির ব্যবস্থা না থাকায় বর কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কনেপক্ষ ওই বরের সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং উপহারসামগ্রী ফিরিয়ে দিয়ে বরপক্ষকে বিদায় করে দেয়।

তবে প্রথম বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন বিয়ের আলোচনা শুরু হয়। নতুন বধূ জান্নাতুল ফেরদৌস আক্তার আখাউড়া উপজেলার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে এবং কসবার সায়েদাবাদ সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বর জুনায়েদ মিয়ার নিজ গ্রামেই কনে জান্নাতুলের মামা তাজুল ইসলাম সরকারের বাড়ি।

বরের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথম ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর নতুন কনেপক্ষই বরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরবর্তীতে দুই পরিবারের সম্মতিতে ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে জুনায়েদ মিয়ার সঙ্গে জান্নাতুল ফেরদৌসের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে বরের ছোট ভাই পারভেজ রানা বলেন, “নতুন এই বিয়ের বিষয়ে কনেপক্ষই তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। উভয় পক্ষের আলোচনায় গতকাল রাতে কনের মামার বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর ভাইয়ের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি আছে। তবে তিনি ছুটি বাড়াবেন। ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয়েছে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, নতুন শশুড়বাড়ির পক্ষ থেকে বরের জন্য পাতে আস্ত খাসি পরিবেশন করা হয়েছে এবং বরসহ সফরকারীরা উল্লাসের সঙ্গে তা গ্রহণ করেছেন।

রাত একটার দিকে নববধূর সঙ্গে তোলা ছবি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে জুনায়েদ মিয়া লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহ’র কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবার কাছে নবদম্পতির জন্য দোয়া ও শান্তিময়, সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করছি।”