পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ৬৯ ঘণ্টা পর ১০ জনকে সরিয়ে নিল বিএসএফ

0
পঞ্চগড় সীমান্তে বিজিবির অনড় অবস্থান: ৬৯ ঘণ্টা পর শূন্যরেখা থেকে ১০ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ ।। ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে ‘পুশ ইন’ চেষ্টার শিকার নারী, শিশুসহ ১০ জনকে ৬৯ ঘণ্টা পর শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, রোববার দিবাগত রাত ২টা ৪০ মিনিটে সীমান্তের নিরাপত্তা বাতি বন্ধ করে ওই ১০ জনকে নিজেদের ভূখণ্ডের দিকে সরিয়ে নেয় বিএসএফ।

গত শুক্রবার ভোর ৫টায় ওই সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে তাঁরা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর থেকে শূন্যরেখার একটি ফসলি জমির সরু আলে কখনো রোদ, কখনো বজ্রবৃষ্টির মধ্যে অবস্থান করছিলেন তাঁরা। পুশ ইন চেষ্টার শিকারদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুজন নারী ও তিনটি শিশু।

দুই দফা পতাকা বৈঠকেও সমাধান হয়নি

এ ঘটনায় শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশের নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও ভারতের ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। এর আগে শুক্রবারও কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে দুই দফার বৈঠকেই কোনো সমাধান আসেনি।

‘বাচ্চাদের কষ্ট দেখে খেতে পারছিলাম না’

হাড়িভাসা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাসিবুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাতে বৃষ্টির মধ্যে ওই ১০ জন শূন্যরেখায় ছিলেন। রাত আড়াইটার পর হালকা বৃষ্টির সময় বিএসএফ সদস্যরা এসে তাঁদের ভারতের দিকে নিয়ে যান। তিনি বলেন, ‘তিন দিন ধরে রোদ-বৃষ্টিতে ওখানে থাকা বাচ্চা আর নারীদের কষ্ট দেখে খুবই খারাপ লাগছিল। বাড়িতে খেতে বসলেই ওই বাচ্চাদের চেহারা চোখে ভাসে। ঠিকমতো খেতে পারছিলাম না।’

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, সীমান্তে পুশ ইন প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর নজরদারি অব্যাহত আছে।