ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করার দাবিতে যশোরে শ্রমিক সমাবেশ

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত এবং রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিতে যশোরে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আয় ও মজুরির মধ্যে অসামঞ্জস্য এবং শ্রমিকদের সাংগঠনিক ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন বক্তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও শ্রমিকদের আয় সেই তুলনায় বাড়েনি। ফলে শ্রমজীবী মানুষের একটি বড় অংশ প্রতিনিয়ত জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে সংকটে পড়ছেন।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনের ব্যয় মেটাতে শ্রমিকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

বক্তারা বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা জরুরি। তাদের মতে, শ্রমিকদের জীবনমান ও ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণ না করা হলে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার সংকট আরও গভীর হতে পারে।
শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়নের দাবিও তুলে ধরেন সমাবেশের বক্তারা।

তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং সাংগঠনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে শ্রমিকবান্ধব ও গণতান্ত্রিক আইন প্রয়োজন। একই সঙ্গে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

সমাবেশে যশোর জেলা ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ লাল সরকার, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, যশোর পৌরসভা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিরণ সরকার, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা নাজমুল হোসাইন এবং যশোর জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কামাল পারভেজ দুলুসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, মজুরি বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন, ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলায় রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানান।

শেষে শ্রমিক নেতারা বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংগঠিত আন্দোলন আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।