নতুন বাংলাদেশ নিয়ে নাক গলানো থামান

0

শান্তনু ইসলাম সুমিত ।। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঝাড়খণ্ডের গিরিডিতে এক দলীয় জনসভায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়ার যে হুমকি দিয়েছেন, বহু বছর পর এ নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। তবে এই প্রথমবার নয়, অমিত শাহ এর আগেও বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করেছেন। অমিত শাহ ভারতের নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যে বসবাসরত মুসলমানদের অনুপ্রবেশকারী বলে থাকেন। ভারতের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী একবার তিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের উইপোকা বলেছেন, অন্যবার বলেছিলেন এদের বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হবে।

শুধু অমিত শাহ নয় এধরনের মন্তব্য বিজেপির অন্যান্য নেতাদের মুখেও শোনা গেছে। আগে এসব ‘কু-কথা’ বলা হলেও, শেখ হাসিনার সরকার সে সবের জোরালো প্রতিবাদ করেনি। কিন্তু এবার ভারতীয় উপ-রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়ে প্রতিবাদ জানানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারতকে জানিয়ে দিয়েছে যে এ ধরনের মন্তব্য আর সহ্য করা হবে না। ঝাড়খণ্ডে গিরিডিতে ওই জনসভায় ভাষণে ভারতে একাধিকবার রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়টি টেনে এনেছেন।

তিনি একবার বলেন, ‘ঝাড়খণ্ডে একবার সরকার বদল করুন। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে খুঁজে বের করে ঝাড়খণ্ড থেকে তাড়ানোর কাজটি ভারতীয় জনতা পার্টি করবে। তারা আমাদের সভ্যতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তারা আমাদের সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছে।’

ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন ‘এরা আমাদের মেয়েদের নানা ভাবে ভুয়া বিবাহ করছে। তারা আমাদের রোজগারপত্রও লুট করছে। ঝাড়খণ্ডেঅনুপ্রবেশকারীদের কোনও জায়গা নেই, একমাত্র বিজেপি সরকারই এটা করতে পারে।’

তৃতীয়বার অমিত শাহ দাবি করেন, ‘ঝাড়খণ্ডে যদি এভাবে অনুপ্রবেশ ঘটতে থাকে, তাহলে ২৫-৩০ বছরের মধ্যে এখানে অনুপ্রবেশকারীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠবে।’

তিনি ঝাড়খণ্ডের নারীদের ওপরে অত্যাচার ও হত্যার কথা প্রসঙ্গে বলেন যে, ‘ওইসব ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তাদের ওই রাজ্যের সরকার কিছু বলে না, কারণ তারা এর ভোটব্যাংক, তারা অনুপ্রবেশকারী।’ ‘আমি আজ বলে যাচ্ছি, আপনারা এখানে পদ্ম ফুলের সরকার বানান, এইসব অনুপ্রবেশকারীদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করার কাজটা আমরা করব।’

কখনও উইপোকা, কখনও বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করার হুমকি আবার কখনও উল্টো করে ঝুলিয়ে শায়েস্তা করার শাসানি- বিজেপি নেতারা এ ধরনের মন্তব্য মাঝে মাঝেই করেন। ইন্ডিয়ান মিডিয়ার একটি অংশ এ সময় মন্তব্য করে যে বিজেপি নেতৃত্ব নির্বাচনে ফায়দা নেবার জন্যই এটা করছে।

অমিত শাহর মন্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র ক্ষোভ এবং চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং আহ্বান জানিয়েছে রাজনৈতিক নেতারা যেন এমন আপত্তিকর এবং অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।

মন্ত্রণালয় আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল পদ থেকে আসা এমন মন্তব্য দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বোঝাপড়ার চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করে।

ভারতের নেতাদের বক্তব্য শুনে মনে হয় এখনো তারা হয়ত শেখ হাসিনার বাংলাদেশকে দেখছেন। কিন্তু না। বাংলাদেশ বদলে গেছে। ভারতের মদদপুষ্ট বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

বিগত দিনগুলোতে আওয়ামী লীগের ফ্যসিস্ট শাসনকে টিকিয়ে রাখার পেছনে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ভারতকেই দায়ী করে। বাংলাদেশে বর্তমানে ভারত বিরোধী মনোভাব তুঙ্গে। এই নতুন বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ তথা সমগ্র জনগণ ভারত, আমেরিকার সাথে যুক্তিসঙ্গত, মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক চায় এবং সেটা হতে হবে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে সকল দেশকেই। হাজারো শিক্ষার্থী রক্ত দিয়েছেন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে, অন্য কোনো দেশের দাদাগিরি তারা মেনে নেবে না। ভারত কিংবা আমেরিকার বোঝা উচিত এই নতুন বাংলাদেশ তার অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে অন্য কোনো দেশের নাক গলানো আর সহ্য করবে না।