নওয়াপাড়ায় স্বপ্ন ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার, অভয়নগর (যশোর)॥ অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাত্র ৫০০ গজের মধ্যে নওয়াপাড়া শিল্পশহরে সদ্য চালু হওয়া স্বপ্ন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল সিজারিয়ান অপারেশনে মরিয়ম খাতুন (১৭) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার ভোররাত ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। মাত্র ৯ দিন আগে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্বোধন করা এই বেসরকারি হাসপাতালটির এমন গাফিলতিতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মৃত মরিয়ম খাতুন অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামের হাসান শেখের মেয়ে ও বেজেরডাঙ্গার হাসানুরের স্ত্রী।

মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে সন্তানসম্ভবা মরিয়মকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্যে স্বপ্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডা. শামিমুজ্জামান শামীম রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যে একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও প্রসূতিকে ওটি থেকে বের করা হয়নি। এতে পরিবারের স্বজনদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। তারা ওটির সামনে খোঁজ নিতে গেলে সেখানে কর্তব্যরত সেবিকারা (নার্স) রোগীর স্বজনদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, ভুল অপারেশনের কারণে ওটির ভেতরেই মরিয়মের মৃত্যু হয়। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রাত ৩টার দিকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে রোগীকে ওটি থেকে বের করে খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

স্বজনরা জানান, ডা. শামিমুজ্জামান শামীম নিজে উপস্থিত থেকে মৃত অবস্থাতেই রোগীকে খুলনায় পাঠান। গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছালে সেখানকার চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা দেখে তাকে গাড়ি থেকে নামাতে অস্বীকৃতি জানান। পরে মরিয়মকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত মরিয়মের নানি বলেন, আমার নাতনির ওটির ভেতরেই মৃত্যু হয়। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নিজেদের অপরাধ লুকাতে মাঝরাতে নাটক সাজিয়ে লাশ খুলনায় পাঠিয়ে দেয়। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

মৃত মরিয়মের পিতা বলেন, আমার এক ছেলে মৃত্যু শয্যায়, আর মেয়েকে এভাবে হারালাম। আমার কথা বলার কোন শক্তি নেই।

এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে সংবাদকর্মীরা ওই ক্লিনিকে গেলে কেউ কোন সদুত্তর দিতে পানেননি।

মরিয়মের মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে ডা. শামিমুজ্জামান শামিম বলেন, অপারেশন করার পর রোগীর প্রেসার কমে যায়। পরে হার্ট এটাক হলে গাজী মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়। শুনেছি সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিব জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। লোকমুখে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মাদ মাসুদ রানা জানান, ঘটনাটি শুনেছি। তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের কাজ চলছে। এখনো পরিবার থেকে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।