ধর্ষকের বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্কুলছাত্রীর চিঠি

0

 

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বগুড়ায় ধর্ষকের সর্বোচ্চ বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি লিখেছেন ভুক্তভোগী এক স্কুলছাত্রী।
জেলার ধুনট উপজেলায় মুরাদুজ্জামান মুকুল (৪৮) নামে এক প্রভাষক কয়েক দফায় ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ।
ধর্ষকের বিচার চেয়ে ওই স্কুলছাত্রীর লেখা চিঠি গত ৩ সেপ্টেম্বর ডাকযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার সকালে ১০ লাইনের সেই চিঠির একটি ফটোকপি পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত মুরাদুজ্জামান মকুল ধুনট উপজেলার জালশুকা হাবিবর রহমান ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক ও শৈলমারি গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে।
ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় মুরাদুজ্জামান মকুল প্রায় ৪ মাস ধরে বগুড়া জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন।
ওই স্কুলছাত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মা সম্বোধন করে লেখা চিঠিতে ধর্ষককে পাক হায়নার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
উল্লেখ করেছেন, গত রমজান মাসে (এপ্রিল) পিরিয়ড চলাকালে পা ধরে রক্ষা চাইলেও ধর্ষক তাকে ছাড়েনি, বরং ধর্ষণের সময় মরণ যন্ত্রণার দিয়েছে।
ধর্ষককে নরপশুর সঙ্গে তুলনা করে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করে মেয়েটি ‘বিচার না পেলে বাঁচব না’ বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
ধুনট পৌর এলাকার ওই ছাত্রী এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
মুরাদুজ্জামান মকুল স্কুলছাত্রীর বাবার বাসায় ভাড়া থাকতেন। এ অবস্থায় মুরাদুজ্জামান মকুল ৩ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফা ধর্ষণ করেন মেয়েটিকে এবং ওই ধর্ষণের দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন।
এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে ১২ মে মুরাদুজ্জামান মকুলের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা করেন।
পুলিশ ওই দিনই ধর্ষণের ভিডিও ধারণকৃত ২টি মোবাইল ফোনসহ মুরাদুজ্জামানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।
অপরদিকে ডাক্তারি পরীক্ষায় মেয়েটিকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলাটি প্রথমে ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা (তদন্ত) করেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার অভিযোগ উঠলে মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।