দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

0
ভোট দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ।। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সর্বমোট ২৫৫টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) নির্বাচন পরিচালনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করেন। ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যা সাতটায় আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন।

এর আগে বেলা দুইটা থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। বর্তমান সংসদে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন সদস্য তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সংসদের অধিবেশন না থাকায় সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচনী কর্তা হিসেবে সভার সভাপতিত্ব করেন ও ভোট গ্রহণ পরিচালনা করেন।

ভোটের শুরুতে নির্বাচন পরিচালনা বিধি ও ব্যালটে স্বাক্ষর করার নিয়ম অবহিত করেন সিইসি। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান, বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সাথে নিয়ে ভোট দেন। একে একে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সারিবদ্ধভাবে ব্যালট বাক্সে ভোট ফেলেন।

ভোটে অংশগ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। জুলাই সনদের ঐকমত্য থেকে সরে আসার অভিযোগ তুলে তাঁর দল ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়।

ভোটগ্রহণ চলাকালীন এক ঘণ্টারও বেশি সময় সংসদ কক্ষে নিজের আসনে বসে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাঁর পাশে বসা ছিলেন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিকেলে ৩টা ১৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ফখরুলকে সাথে নিয়ে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করে নিজের কার্যালয়ে যান।

নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “৩৫ বছর পরে সাংবিধানিক মতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ধারায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নির্বাচন হওয়াটা উচিত। আশা করি, দেশের মানুষ প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক চর্চা দেখতে পাবে।”

অন্যদিকে, সংবিধানে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকার বিষয়ে মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ না থাকলে এবং স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে রাষ্ট্রপতি পদটি আরও বেশি সম্মানিত হতো।”

উল্লেখ্য, নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী শপথ ও কার্যভার গ্রহণের মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষিত হবে। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় তিনি এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।