দুর্ঘটনায় আহত যেকোনো ব্যক্তিকে সব হাসপাতাল-ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে নির্দেশনা জারির নির্দেশ

0
হাইকোর্ট ।। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাই বা যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জরুরি জীবনরক্ষায় দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা জারি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

প্রায় আট বছর আগে দায়ের করা এক জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রাজধানীর পৃথক ছিনতাইয়ের ঘটনায় খুলনার ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম ও বরিশালের হেলেনা বেগম নামে এক নারী কর্মীর প্রাণহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০১৮ সালে এই আইনি লড়াই শুরু হয়। ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি ‘ছিনতাইকারীর হাতে নারীসহ দুজন নিহত’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই খবরের ওপর ভিত্তি করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’-এর পক্ষে দুই আইনজীবী ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে আহত ভুক্তভোগীদের জীবন রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে সার্কুলার জারির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। আজ শুনানি শেষে সেই রুল আংশিক অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে এই রায় দেওয়া হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ জীসান হায়দার। সালাহউদ্দিন হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম।

রায়ের পর সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের জানান, পূর্বে হাইকোর্টের নির্দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জন্য একটি নীতিমালা করা হলেও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে তা মানা হচ্ছিল না। তাছাড়া বিদ্যামান বিধিতে সড়ক দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ থাকলেও ছিনতাই বা অন্যান্য দুর্ঘটনার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না। আজকের রায়ে আদালত ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনা আইন সংশোধন করে যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে কাছের যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রেখে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। অবিলম্বে এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের দাবির বিষয়ে আইনজীবী জানান, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে রোগী দেখার নথিপত্র এবং ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা থাকায় আদালত সরাসরি ক্ষতিপূরণের আদেশ না দিয়ে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আবেদন করার সুযোগ পাবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি সায়েদাবাদের সালাহউদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত ব্যবসায়ী ইব্রাহিম। অন্যদিকে ধানমন্ডিতে ছিনতাইকারীদের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান বেসরকারি হাসপাতালের নারী কর্মী হেলেনা বেগম। সেই দুঃখজনক ঘটনার অবসান ঘটিয়ে সব হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার এই চূড়ান্ত রায় এলো।