দুই ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে চেয়ার থেকে সরিয়েছি, সেনাবাহিনীর মেজরকে চেইঞ্জ করছি : এমপি মাসুদ

0
বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ; যেখানে গত শনিবার জামায়াত নেতার সভাপতিত্বে এই রাজনৈতিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলামের (মাসুদ) একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার দুপুরে বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যার ভিডিও পরবর্তীতে ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘দুই ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে চেয়ার থেকে সরিয়েছি, দুই ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনীর মেজরকে চেইঞ্জ করছি এখান থেকে। অনেকে বলে, “ভোটে এমপি হইছেন।” আমি বলি, খালি ভোটে এমপি হই নাই, পাওয়ারেও এমপি হইছি। পাওয়ার দেখাইতে আসবেন না। পাওয়ার দেখাইবে পাঁচ লক্ষ মানুষ।’ সূর্যমণি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মজিবর রহমানের (বাচ্চু) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় তিনি আরও বলেন, ‘শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস, এইটা বাউফলের মানুষকে দেখানোর দরকার নাই; শেখ হাসিনার কাছে জাইনা নিয়েন। শেখ হাসিনার কাছে জিজ্ঞেস কইরা দেইখা নিয়েন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস। শফিকুল ইসলাম কী জিনিস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জাইনেন, ওখানকার সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসীর কাছে জিজ্ঞেস কইরেন।’ বক্তব্যে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘উল্টাপাল্টা কথা বইলা মটকা (মাথা) গরম করবেন না। মটকা গরম করলে সামলাইতে পারবেন না।’

অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘শেখ হাসিনা উন্নয়ন তো কম করে নাই, তারপরও পালানো লাগছে কেন? উন্নয়ন করে যদি টিকে থাকতে পারত, তাহলে বাংলাদেশে একমাত্র শেখ হাসিনার টিকে থাকার কথা। কিন্তু পারে নাই কেন? রাস্তা দিছে, ঘাট দিছে, সেতু দিছে—এইটা করছে, ওইটা করছে, কিন্তু মানুষের মনে কোনো আনন্দ ছিল না। মানুষের অধিকার ছিল না।’ তিনি মন্তব্য করেন, জনগণের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়।

বক্তব্যের বিষয়ে জানতে আজ সোমবার বেলা তিনটার দিকে যোগাযোগ করা হলে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মরহুম বাবা ও শ্বশুর এবং স্ত্রীকে নিয়ে যেভাবে মিথ্যা ও অশালীন কথাবার্তা সামাজিক যোগাযোগে প্রচার করা হচ্ছে, তা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। তাদের উদ্দেশ্য করেই কিছু কথা বলেছি।’ তবে একই সঙ্গে তাঁর দেওয়া অনেক ভালো কথাও প্রচার করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।