তালায় চুরির অপবাদে স্কুলছাত্রকে মারপিট

0

তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে চুরির অপবাদে আবারও সুলাইমান বিল্লাল (১৫) নামের নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে মারপিট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে তালা উপজেলার কলাপোতা এলাকার জাকির হোসেনের মৎস্য ঘেরে।
আহত শিশু সুরাইমান বিল্লাল লাউতাড়া গ্রামের মান্নান গাজী ছেলে ও তেরছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। সে বর্তমানে তালা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সুরাইমান ও তার স্বজনেরা জানান, তার একবন্ধুর সাথে গত ২ দিন আগে পার্শ্ববর্তী জাকির বিশ্বাসের কলিনদা বিলের মৎস্য ঘেরে বেড়াতে যায় । এর দুদিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাকির হোসেনের ঘের কর্মচারী সোহেলসহ কয়েকজন তাকে বাড়ি থেকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ডেকে ঘেরে নিয়ে এক হাজার টাকা চুরির অপবাদে হাত-পা বেঁধে মারপিট করেন। এ সময় শিশুটির পিতা মান্নানকে ফোনে মারপিট ও আর্তনাদের শব্দ শোনানো হয়।
শিশুর দাদা হোসেন গাজী জানান, সংবাদ পেয়ে ঘেরে পৌঁছে দেখি ঘের মালিক জাকির, কর্মচারী সোহেল, জয়দেবসহ কয়েকজন তখনও বিল্লালকে বেদম মারপিট করছেন। এ সময় আমরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন সরদার জানান, ঘটনাটি শুনেছি। রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে একটি শিশুকে নির্যাতন করা খুবই দুঃখজনক। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
তেরছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, দরিদ্র পরিবারে ছেলে বিল্লাল আমার স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। সে খুবই শান্তশিষ্ট ভদ্র ছেলে। সে ভুল করে থাকলে তার মা-পিতাকে জানাতে পারতো। মারপিট করা মোটেও ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে ঘের মালিক জাকির হোসেন বিশ্বাস জানান, ঘেরের চুরির ঘটনায় কর্মচারীরা তাকে সন্দেহ করে দুই-একটা চড় থাপ্পড় মারে। আমি গিয়ে তাকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে দিই। আরেক অভিযুক্ত জয়দেব জানান, আমার পাশের ঘের থাকায় আমি সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্ত আমি মারপিটের ঘটনার সাথে জড়িত নই।
এ ঘটনায় তালা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চৌধুরি রেজাউল করিম জানান, এ বিষয় অভিযোগ এখনও আসেনি।