তালার রথখোলা বাজার ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

0

তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় তালায় রাস্তার পাশে টোল দোকান অপসারণে সরকারি নির্দেশ উপেক্ষিত কিন সাতক্ষীরা, গ্রিন সাতক্ষীরা শীর্ষক প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের রথখোলা বাজারে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সচেতন নাগরিক সমাজ ও দোকান মালিকদের পক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আনারুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও তাদের তথ্যদাতাদের সমালোচনা করে বলেন, তালার রথখোলা একটি ঐতিহাসিক স্থান, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও এ জনপদের মানুষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই রথখোলায় সরকারের অনুমোদন ও নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি জায়গায় হাট-বাজার পরিচালিত হয়ে আসছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বাজারটি ইজারাভুক্ত হাট-বাজার হিসেবে দাবি করে টোল শব্দ ব্যবহারের প্রতিবাদ করা হয়। তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, কয়েকদিন পূর্বে নিজ পরিচয় না দিয়ে জালালপুর ও খেশরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউএলএও গগন চন্দ্র মন্ডল রথখোলা বাজারে এসে কয়েকজন দোকানদারের নাম ঠিকানা লিখে নিয়ে যান। এ সময় তিনি সকলের অবগতির জন্য বলে যান, সরকারি হাট-বাজারের জায়গা বা শ্রেণি পরিবর্তন করতে জেলা প্রশাসক বরাবর জমি দানপত্র করতে হয়। কোন ব্যক্তির নামে সরকারি হাট-বাজার হয় না। সম্মেলনে তিনি প্রকৃত ঘটনার উদ্ধৃতি দিতে গিয়ে বলেন, স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রতিষ্ঠিত ও ঐতিহ্যবাহী রথখোলা বাজারটি ধ্বংস করতে কিন সাতক্ষীরা গ্রিন সাতক্ষীরা সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সোহাগ চন্দন বাজার প্রতিষ্ঠা করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। সোহাগ চন্দনের বাবাকে মিথ্যা দানবীর সাজিয়ে এবং আর্থিক ফায়দা হাসিল করতে সংশ্লিষ্টরা হাটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের নামে মোটা অংকের টাকা পকেটস্থ করেছেন। প্রকাশিত সংবাদে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে খেশরা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা গগন চন্দ্র মন্ডল টোল দোকানগুলো খাস হিসেবে চিহ্নিত করে তা অপসারণের নির্দেশ দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করলেও আদৌ উক্ত দোকান ঘরের জায়গা খাস নয় এবং ইউএলএও গগন চন্দ্র মন্ডল কোথাও কাউকে দোকান অপসারণের নির্দেশ দেননি কিংবা কোন জনপ্রতিনিধিও সাংবাদিককে জানাননি বলে দাবি করা হয়। মূলত খাস খতিয়ানের ৩ শতাংশ জমির উপর ১০/১৫ টি পাকা দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখিত জেলা প্রশাসকের নির্দেশে দোকান অপসারণ কিংবা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম মহিদুল হক লিটুর নাম ব্যবহার করে যে মিথা, অবাস্তব ও কাল্পনিক কথা লেখা হয়েছে তা সম্পূন ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়। সহিলুদ্দীন শেখসহ উল্লেখিতদের সম্পৃক্ত করে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক। সহিলুদ্দীন শেখ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জালালপুর ইউনিয়নের ১ন ং ওয়ার্ডের ৮০ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক। যার প্রেক্ষিতে এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজ ও দোকান মালিকগণ সংবাদ সম্মেলনে ইউপি চেয়ারম্যান, সহিলুদ্দীন শেখসহ উল্লেখিতদের জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানান। সংবাদ সম্মেলনে রথখোলা বাজারের মালিকানাধীন জায়গা উদ্ধার করে বাজারটির শ্রীবৃদ্ধিসহ সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনার আরো জোর দাবি জানানো হয়। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালেরও আগে থেকে রথখোলায় ব্যবসা-বাণিজ্য চলে আসছে। ১৯৯৭ সালে এখানে মাত্র ১৪ টি দোকান থাকলেও বর্তমানে দোকানের সংখ্যা কয়েক শ। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা।