ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে জামায়াতের প্রার্থী সাদিক কায়েম, এনসিপির আসিফ মাহমুদকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা

0
সাদিক কায়েম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ।। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মেয়র পদে ডাকসুর ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. আবু সাদিককে প্রার্থী করার বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত করে ফেলেছে জামায়াতে ইসলামী।
তবে এই সিটিতে দলটির জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগেই নিজেদের প্রার্থী হিসেবে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার নাম ঘোষণা করেছিল।
এনসিপির ঘোষণার পর জামায়াত একই আসনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করায় দুই দলের সমঝোতা ও স্থানীয় নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।

এর আগে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসন থেকে লড়তে চেয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ভোটে অংশ নেননি। এনসিপির শীর্ষ নেতাদের দাবি, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনকালে আসিফ মাহমুদের কিছু ভূমিকার কারণে তাকে সমর্থন দিতে জামায়াতের আপত্তি ছিল। ফলে তিনি আর নির্বাচন করেননি।

সিটি নির্বাচনেও জামায়াতের পক্ষ থেকে সাদিক কায়েমকে বেছে নেওয়ার ঘটনাকে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন এনসিপির নেতারা, যা দলটির সমর্থকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

সম্প্রতি গত ২২ জুন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়। এর পরপরই ১৩ জুলাই তিনি শিবিরের কেন্দ্রীয় পদ ছেড়ে দেন এবং মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেন। এতে এটি স্পষ্ট যে, ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ জামায়াতের সমর্থন পাচ্ছেন না।

এমতাবস্থায় এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণসহ ৫টি সিটিতে মেয়র প্রার্থী এবং ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে দলটি। তবে নির্বাচনে একক প্রস্তুতির কথা বলা হলেও বিকল্প জোট বা সমঝোতার পথ খোলা রাখছে এনসিপি।

অতি সম্প্রতি এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। খেলাফত মজলিস জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে থাকলেও কওমি ঘরানার দলগুলোর সাথেও তাদের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে এই বৈঠকের আলাদা রাজনৈতিক তাৎপর্য দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

জোট ও সমঝোতা নিয়ে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বা আগে যদি জাতীয়ভাবে মনে হয় যে সমঝোতা হলে সরকারি দলের বাইরে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে বিরোধী দলের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রত্যেক দলই সাংগঠনিক অবস্থা শক্তিশালী করা এবং প্রার্থীদের অবস্থান শক্তিশালী করার দিকেই মনোযোগী।”

জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত জোট থেকে ৩০ আসনে লড়ে ৬টিতে জয় পেয়েছিল এনসিপি। এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ মনে করেন, ২৭০টি আসনে প্রার্থী না দেওয়ায় তৃণমূল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে অন্তত ৭০ শতাংশ আসনে এককভাবে লড়তে চায় এনসিপি।

ভবিষ্যৎ পথচলা ও নির্বাচন প্রসঙ্গে সরাসরি আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমার মনে হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো বোঝাপড়া হবে। সেটি রাজনৈতিক জোট না হয়ে নির্বাচনী সমঝোতাও হতে পারে। সব ধরনের সম্ভাবনাই আসলে আছে।”

মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে আসিফ মাহমুদ আরও যোগ করেন, “মামুনুল হকের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো, আমাদের অন্য নেতাদের সঙ্গেও অভ্যন্তরীণভাবে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রক্রিয়া হলে সেটা হবে দলীয় উদ্যোগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুব স্পষ্ট নয় যে কার সঙ্গে কী হবে। আমার মনে হয়, তফসিল ঘোষণার সময় আসতে আসতে এগুলো স্পষ্ট হবে।”

সবমিলিয়ে, জামায়াত সাদিক কায়েমকে প্রার্থী ঘোষণার পর আসিফ মাহমুদ শেষ পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণেই লড়বেন, নাকি কুমিল্লা বা অন্য কোনো সিটিতে প্রার্থী হবেন—তা দেখতে তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।