ডুমুরিয়ার আঠারোমাইলে মহাসড়কে বাজার, চলাচলে প্রতিদিনের ভোগান্তি

0

এম রুহুল আমীন, ডুমুরিয়া (খুলনা) ॥ ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারোমাইল এলাকায় মহাসড়কের ওপর প্রতিদিন চলছে পাইকারি কাঁচামাল বেচাকেনা। এর ফলে সীমাহীন যানজটের কবলে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারী ও পরিবহনের যাত্রীরা। জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেও এর কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
উপজেলার আঠারোমাইল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় মহাসড়কের ওপর প্রতিদিন বসছে পাইকারি কাঁচামালের বেচাকেনা। খুলনা-সাতক্ষীরা মহামড়কের দুই পাশে কাঁচামালের আড়তগুলো অবস্থিত। এখানে প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাঁচামাল বেচাকেনা হয়। খুলনার ডুমুরিয়া, সাতক্ষীরার তালা ও যশোরের কেশবপুর উপজেলার কৃষকরা যেমন তাদের উৎপাদিত শাক সবজি ও বিভিন্ন ধরনের ফল বিক্রি করতে নিয়ে আসেন, তেমনি আশপাশের বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরাও এখানে মালামাল কিনতে আসেন। এ কারণে হাজারো লোকের সমাগম ঘটে এই পাইকারি কাঁচাবাজারে। তবে এই ব্যস্ততম মহাসড়কের দুই পাশে মালামাল আনা নেওয়া ও কেনাকাটা করার কারণে মহাসড়কে সীমাহীন যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন খুলনা-সাতক্ষীরা, যশোর-সাতক্ষীরা ও খুলনা-পাইকগাছা রুটের কয়েক শ যাত্রীবাহী বাস নিয়মিত চলাচল করে। এছাড়া সাতক্ষীরা ও খুলনার পাইকগাছা থেকে প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, বরিশালসহ বিভিন্ন রুটে দূরপাল্লার পরিবহন এবং পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহনও চলে নিয়মিত। এতকিছুর পরও একপ্রকার নিরুপায় হয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতারা কাঁচামাল বেচাকেনা করছেন। অন্যদিকে সাতক্ষীরা, পাইকগাছা ও কয়রা থেকে আসা সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে রোগী, অফিসগামী চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা যানজটের কবলে পড়ে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
মারাত্মক এ জনভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে ওই বাজারের অদূরে মহাসড়কের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক মানের একটি পাইকারি কাঁচাবাজার। অথচ হাতেগোনা কয়েকজন ব্যবসায়ী ছাড়া আর কেউ সেই আড়তে ব্যবসা করছেন না। এতে দিনদিন জনভোগান্তি বাড়ছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে খুলনা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা। বুধবার সকালে সরেজমিনে ওই কাঁচাবাজারে গিয়ে একই পরিস্থিতি চোখে পড়েছে। এসময় পথচারী, যাত্রী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারাও অসন্তোষ প্রকাশ করে।
কাঁচাবাজার কমিটির সভাপতি আতিয়ার রহমান বিশ্বাস জনভোগান্তির কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা প্রায় ১২ বছর ধরে এই আড়তে ব্যবসা করছি, হঠাৎ করে জায়গা পরিবর্তন করি কিভাবে। মহাসড়কের ওপর বাজার বসানোর অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জমির মালিকের সাথে কথা বলতে বলেন। ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর (খর্নিয়া) হাইওয়ে থানার ওসি ফজলুল করিম বলেন, হাইওয়ের ওপর যানজট নিরসনে আমরা বাজার কমিটিকে বারবার তাগিদ দিয়েছি কিন্তু তারা কোনো গুরুত্বই দেয় না।
ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের কাছে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছিল, আমরা তদন্ত সাপেক্ষে একটি লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেছি।