ডিভোর্স-বিয়ে নিয়ে সেদিন যা বলেছিলেন ‘মিসেস নাসির’

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও এয়ারহোস্টেস তামিমা সুলতানা তাম্মি। ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল তাদের। কিন্তু বিয়ের সপ্তাহ না পেরোতেই তারা নেতিবাচক কারণে খবরের শিরোনামে। অভিযোগ উঠেছিল, তামিমা তার সাবেক স্বামী রাকিব হাসানকে ডিভোর্স না দিয়েই বিয়ে করেছেন। তা মামলা পর্যন্তও গড়ায়। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) এর তদন্তের দিয়েছেন। সেই তদন্তের রেশ ধরেই বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই মামলায় নাসির দম্পতি ও তামিমার মা সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। বিয়ের পরপরই সাবেক স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করেন নাসির-তামিমা। ওই দিন সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন মিসেস নাসির, তা কী বলেছিলেন তামিমা; ফিরে দেখা যাক- ‘মিস্টার রাকিব হাসান যে কথা বলেছেন, উনাকে তালাক না দিয়ে আমি তাকে (নাসির) বিয়ে করেছি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমি তালাকের জন্য আবেদন করেছিলাম ২০১৬ সালে, তা অনুমোদন হয় ২০১৭ সালে। সম্পূর্ণ আইনি সবকিছু মেনে ওই ডিভোর্স হয়। এটা তার পরিবারবর্গ, তিনিসহ সবাই জানতেন। তো তিনি যেটা করছেন, কেন করছেন সেটা আপনাদের সবারই হয়তো বা বোঝা হয়ে গেছে। সেখান থেকে আমি বলব, শুধু তার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল এবং আমার একটা বাচ্চা আছে, এটা ছাড়া তার সব কথাই সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি যা যা বলেছেন, সেগুলোর যথাযথ প্রমাণ, প্রত্যেকটি কথার প্রমাণ আমাদের আছে। আরেকটি বিশেষ কথা উল্লেখ করতে চাই, ফেসবুকে আমাদের নামে ফেইক আইডি খুলে মিথ্যা অপপ্রচার করা হচ্ছে। আমাদের কোনো ফেসবুক প্রোফাইল নেই । যদি কিছু জানাতে হয়, তাহলে আমরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে, ওর (নাসিরের) ফেসবুক পেজ থেকে জানাব। তাই দয়া করে কারও কথা শুনে, কারও কাছে কিছু শুনে তা ছড়িয়ে দিবেন না।’
মেয়েকে জোর করে রাকিব নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তামিমা বলেছিলেন, ‘ওকে (মেয়েকে) নিয়ে যাওয়া হয় ২০১৯ সালে। ওর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু কাউকে কিছু না বলে ওকে নিয়ে যান। আমার মা যখন ওকে পায় না তখন আমাকে মেসেজ করে, আমি তখন ফ্লাইটে ছিলাম। আমি যখন জানতে পারি, তারও আগেই আমার মা জিডি করেন তার নাতনী কোথায় আছে, কেমন আছে জানার জন্য। পরে তিনি নিশ্চিত করেন যে মেয়ে তার কাছে আছে, ভালো আছে। এবং বলেছিলেন, ‘আপনার মেয়েকে বলেন বাংলাদেশে আসতে, সে যা করার করবে।’ আমি বাংলাদেশে আসতে পারিনি বলে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারিনি। এখন নেওয়া হচ্ছে।’ ‘আমার যতদূর মনে আছে ৯ মাস আগে নাসির আমার ছবি ওর ইনস্টাগ্রাম পেজে দেয়। তা যথারীতি আলোচনায় উঠেছিল। তখন সে জানায় যে, ‘এই সেই মেয়ে যাকে আমি বিয়ে করিনি। যদি করি তাহলে ঘটা করেই বিয়ে করব।’ তিন মাস আগে আরেকটি গণমাধ্যমে সে বলেছিল, ওই ছবির মেয়েকে বিয়ে করতে যাচ্ছে সে। তারপর ধুমধাম করে আমরা কাবিন করেছি, গায়ে হলুদ করেছি। কিন্তু রিসিপশনের আগে হুট করে সে কিভাবে জানতে পারে বিয়ের খবর! এটা তো হঠাৎ করে হয়নি। নাসির সব জায়গায় বলে আসছে এক বছর ধরে যে, এই মেয়েকে বিয়ে করতে যাচ্ছি। আমি যেহেতু জব করি, আমি মিডিয়ায় আসতে চাচ্ছিলাম না। তাই হয়তো সে ওভাবে আমাকে উপস্থাপন করতে চায়নি, তার মনে হয়েছিল, বিয়ে করলে তো সবাই দেখবেই।’ ‘তিনি (রাকিব) যেটা করছেন তা হচ্ছে পাবলিক প্ল্যাটফর্ম পাওয়ার জন্য। তিনি জানেন আমাদের দুই পরিবারের কিছু ভিআইপি থাকে তাদের রিসিপশনে আনতে পারি। ওই সময় আলোচনায় আসতেই এমন কাজ। তার পরিকল্পনা ছিল, ঝামেলা করলে রিসিপশন বাতিল করে দিব, আর সেটা নিউজ হয়ে যাবে। আর বাতিল না করলেও আমরা যেন হেনস্তার শিকার হই সেটা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা তখন একদম পরিস্কার যে আমরা অপরাধী না, নির্দোষ। আমি তো কোনো ভুল করিনি যে ফেঁসে যাব। তিনি যে বলেছেন, উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে, সেগুলোও মিথ্যা কথা। ফেসবুক, ইউটিউব থেকে লিখে নানা কথা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা চুপ এ কারণে যে, আমাদের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট। এজন্যই আমরা এখানে আপনাদের সামনে প্রমাণগুলো দেখাচ্ছি।’