টিকটক নিয়ে দাম্পত্য কলহে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

স্ত্রী সুমনা টিকটকে ভিডিও পোস্ট করতেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন। এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ হতো।

0
টিকটক নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ
নিহত সুমনা ফেরদৌসী ও আটক লিমন মল্লিক - লোকসমাজ

নড়াইল সংবাদদাতা, লোকসমাজ ॥ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে স্বামী লিমন মল্লিককে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) রাতে নিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

নিহত সুমনা ফেরদৌসী (৩৬) লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লিমন জানিয়েছেন—স্ত্রী সুমনা টিকটকে ভিডিও পোস্ট করতেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন। এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ হতো। এরই জেরে সোমবার সকালে সুমনাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে ঘরের মধ্যে ঝুলিয়ে রেখে বাইরে চলে যান তিনি বলে অভিযোগ।

লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে লিমন ঘরের দরজা বন্ধ করে বাইরে চলে যান। বিকেল ৫টার দিকে ফিরে এসে দরজা খুলে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, প্রথমে লিমন স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচারের চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশ জানায়, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরির সময় লিমনের সঙ্গে সুমনার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালে তারা বিয়ে করেন। এটি লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

পরবর্তীতে সুমনাকে নিয়ে লিমন গ্রামের বাড়ি চরদিঘলিয়ায় বসবাস শুরু করেন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে পরিবারে অশান্তি তৈরি হয়। একপর্যায়ে প্রথম স্ত্রী তাদের একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। বর্তমানে লিমন স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান পরিচালনার পাশাপাশি কাঠকাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

পুলিশ পরিদর্শক অজিত কুমার রায় বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।