ঝাঁপা ইউনিয়নের পদচ্যুত চেয়ারম্যান মন্টু কলারোয়ার সলিমপুরে আত্মগোপনে

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের রাজগঞ্জ এলাকার আতঙ্ক ঝাঁপা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাসমুল হক মন্টু আত্মগোপনের নামে পাশর্^বর্তী উপজেলা কলারোয়ার সলিমপুর শ্বশুর বাড়ি অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সেখানে বসে তার বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় এলাকায় কলকাঠি নাড়ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ঝাঁপা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল হক মন্টুকে সরিয়ে তার স্থলে উপজেলা সমবায় অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছে প্রশাসন। এ সংক্রান্ত সংবাদ দৈনিক লোকসমাজে প্রকাশের পর শামসুল হক মন্টু এলাকা থেকে পালিয়ে গিয়ে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা সলিমপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছে। তবে তার বাহিনীর সদস্য তার আপন ভাই রওশন জামান টুটুল, ইউপি সদস্য চন্ডিপুর গ্রামের মাহবুুবুর রহমান, খালিয়া গ্রামের আবুল কাশেম কখনো গোপনে কখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দীর্ঘ এক যুগের অধিক সময় ধরে গোটা রাজগঞ্জ অঞ্চলের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, দখল দারিত্ব ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা শামসুল হক মন্টু ও তার অনুসারীদের আটক না হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। আবার পালিয়ে থেকেও শামসুল হক মন্টু ও তার বাহিনী কলকাঠি নাড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ দীর্ঘ এক যুগের অধিক সময় ধরে শামসুল হক মন্টু আওয়ামী লীগের অবৈধ ক্ষমতাবলে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। ভোট ডাকাতির মাধ্যমে দুই মেয়াদে কথিত ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন বরাদ্দ থেকে অর্থ লোপাট করেন। সেই সাথে সরকারি ঘর বরাদ্দ, বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন কার্ড দেওয়ার নামে উপকার ভোগীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছিল তার টাকা আয়ের উৎস। শালিশ বৈঠকও ছিল তার অবৈধ টাকায় আয়ের অন্যতম উৎস। এভাবে আওয়ামী লীগের অবৈধ ক্ষমতার মেয়াদকালে শামসুল হক মন্টু কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায়। সেই টাকা দিয়ে নিজ গ্রাম চন্ডিপুরের মাঠে কয়েক বিঘা জমি ক্রয় করেন। পরিবার নিয়ে যশোর শহরের শাহ আব্দুল করিম রোডের একটি অভিজাত বাড়িতে বসবাস করতেন। আর শ্বশুর বাড়ি এলাকায় কয়েক একর জমিতে গড়ে তোলেন মৎস্য খামার । সেই খামার এবং শ্বশুর বাড়িতে শামসুল হক মন্টুর ঠাঁই হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
হানুয়ার গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর শামসুল হক মন্টুর ত্রাসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। তবে বিগত দিন সেই চেয়ারম্যান হয়ে দিনের পর দিন যে অন্যায় অপকর্ম করেছে, আশা করেছিলাম একদিন তার বিচার হবে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতির পরও রাজগঞ্জ অঞ্চলের সন্ত্রাসীদের গড ফাদার গ্রেফতার না হওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ।
এ দিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঝাঁপা ইউনিয়নের সাবেক কয়েকজন জনপ্রতিনিধি বলেন, এমন কোন অন্যায় অপকর্ম নেই যা মন্টু চেয়ারম্যান করেনি। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে যা করেছে তা খুবই জঘন্য এবং নিন্দীয়। আমরা তার বিচার চাই। কেন প্রশাসন তাকে আটক করছে না? তিনি পালিয়ে থেকেও হুংকার দিচ্ছেন।
কেন শামসুল হক মন্টু ও তার বাহিনীকে আটক করা হচ্ছে না? এমন প্রশ্নে মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ বলেন, মিডিয়ার কাছে আমাদের বক্তব্য দেওয়া নিষেধ। পরে এই প্রতিবেদক পুলিশ সুপার জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) এবং মিডিয়ার দায়িত্বে থাকা নূরে আলম সিদ্দিকীর মোবাইল ফোনে কল দিলে তারা রিসিভ করেননি।