জীবননগরে রস-গুড়-পাটালি উৎপাদনের জন্য খেজুরের গাছ প্রস্তুতে ব্যস্ত গাছিরা

0
ছবি: লোকসমাজ।

নুর আলম,জীবননগর(চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা॥ প্রকৃতিতে বইছে শীতের আগমনী বার্তা। সকালের শিশির ভেজা ঘাস আর হালকা কুয়াশায় প্রস্তুত হচ্ছে প্রকৃতি। একইসঙ্গে খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য খেজুর গাছ প্রস্তুতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার গাছিরাও। চলতি বছর এ উপজেলা থেকে ৭ কোটি টাকার বেশি ব্যবসায়িক লেন দেন হবে এখাতে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে একসময় খেজুর গাছে ভরপুর ছিল। শীত আসলেই ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গাছিরা। বিকেল হলেই গাছে হাঁড়ি টানাতেন, আবার সকাল হলে রস সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে আসতেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলতো গুড় আর পাটালি তৈরির কাজ। খেজুরের গুড় আর পাটালির মৌ মৌ গন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়াতো। কেউ কেউ রস বিক্রি করতেন, আবার কেউ স্বজনদের বাড়িতেও পাঠাতেন। কালের বিবর্তনে এসবের এখন ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই হচ্ছে। হারিয়ে যেতে বসেছে অনেক কিছু।

এদিকে, প্রতি বছরের মতো এবারও খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য খেজুর গাছ প্রস্তুতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন জীবননগর উপজেলার গাছিরা। জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের আনোয়ার মল্লিকের ছেলে কাদের মল্লিক বলেন, ১০ দিন হয়েছে কাজ শুরু করেছি। গাছের ময়লা ও অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

ধারালো দা দিয়ে খেজুর গাছের সোনালী অংশ বের করে নলি স্থাপনের কাজও প্রায় শেষ। কিছুদিন পরই গাছে লাগানো হবে মাটির পাতিল। এর পরই শুরু হবে সুস্বাদু খেজুর রস সংগ্রহের কাজ। তা দিয়ে তৈরি হবে গুড় ও পাটালি।

হাবিবপুর গ্রামের গাছি জসীম উদ্দীন জানান, প্রতি বছর আমরা প্রত্যেকে কয়েক শত খেজুর গাছ কাটি, রস গুড় উৎপাদন করি। এতে আমাদের সংসার চলে আবার রসগুড়ের ঘ্রাণ আনন্দও দেয়।

শ্যামের হুদা গ্রামের গাছি আক্তারুজ্জামান জানান, তিনি এবার ৩শত গাঝ কেটে রস উৎপাদনের আশা করছেন। শীত বেশি পড়লে রস ও গুড় ভালো হয়। পৈত্রিকসূত্রে এ কাজের সাথে জড়িয়ে আছেন। হেমন্ত আসলেই আমাদের কাজ শুরু হয়। শীত থাকাপর্যন্ত রস পাড়া, জ্বাল দেওয়া, গুড়-পাটালি উৎপাদন করে বিক্রি করা সব নিয়ে ভালোই ব্যস্ত দিন পার হয় এ সময়।

উপজেলার গুড় ব্যবসায়ী খোদাবক্স, ইসহাক মল্লিক ও নূর বক্স এর সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্য বছরের মতো এবারও তারা ঢাকা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এখানকার গুড়-পাটালি পাঠাবেন। তাদের ধারণা গাছি পর্যায় থেকে শুরু করে তাদের কেনা বেচা মিলিয়ে এবার শুধু জীবন নগর এলঅকা থেকে ৭ কোটি টাকার বেশি রস-গুড়-পাটালি বেচা কেনা হবে। এই মৌসুম গুড়ের উৎপাদন বিপণনে ব্যবস্ত সময় পারকরবেন গৃহস্থ, গাছি পরিবার ও গুড় ব্যবসায়ীরা।

গত বছর ৬ কোটি টাকার বেশি লেন দেন হয় এ খাতে। তাদের সবার দাবি এ অঞ্চলের গুড়-পাটালিতে ভেজাল দেওয়া হয় না তাই বাজারে ও অন্য জেলার মানুষের কাছে এ এলঅকার গুড় পাটালির আলাদা কদর রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, আর মাত্র কয়েকদিন পরই গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হবে। রস থেকে গুড় তৈরির পর্ব শুরু হয়ে চলবে প্রায় ফাল্গুন মাস পর্যন্ত। হেমন্তের মাঝামাঝি সময়ে বাজারগুলোতে উঠতে শুরু করবে সুস্বাদু খেজুরের পাটালি ও গুড়।