প্রভাতী এক্সপ্রেস ট্রেন চালুসহ ছয় দফা দাবিতে রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের আওতায় বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতী এক্সপ্রেস ট্রেন চালুসহ ছয় দফা দাবিতে রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এর আগে সকালে যশোর কালেক্টরেট চত্বরে প্রতীকী রেল অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন কমিটির নেতাকর্মীরা।

স্মারকলিপি দেওয়ার আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, পদ্মা সেতু রেল প্রকল্প দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের রাজধানী ঢাকায় দ্রুত ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে বর্তমানে বিকেলে ট্রেন চলাচল করায় সকালে ঢাকায় পৌঁছে অফিস-আদালতের কাজ শেষ করে একই দিনে ফিরে আসার সুযোগ নেই। অন্যদিকে দর্শনা, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জের মানুষও পদ্মা সেতু হয়ে রেলপথে ঢাকায় যাতায়াতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, সকালে ট্রেন চালু হলে যশোরসহ আশপাশের জেলার মানুষ ঢাকায় গিয়ে অফিস-আদালতের কাজ শেষ করে একই দিনে ফিরতে পারবেন। এতে যাত্রীদের সময় ও যাতায়াত ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি রাজধানীর ওপর চাপ কমবে।

এ বিষয়ে এর আগে রেল উপদেষ্টা ও রেল সচিবের কাছে দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

স্মারকলিপিতে ছয় দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো—বর্তমান সময়সূচি বহাল রেখে বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতী এক্সপ্রেস চালু; যশোর থেকে প্রতিদিন ঢাকা ও খুলনায় যাতায়াত করে অফিস করার উপযোগী ট্রেনের সময়সূচি নির্ধারণ; আন্তনগর ট্রেনে সাধারণ ও মালবাহী বগি সংযোজন এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা; বাসের তুলনায় কম ভাড়ায় সাধারণ শ্রেণির টিকিট নিশ্চিত করা; অ্যাপে নিবন্ধনের বাইরে টিকিট সংগ্রহের বিকল্প ব্যবস্থা চালু ও প্রবীণদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডাবল রেললাইন দ্রুত বাস্তবায়ন।

বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক কাউসার আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম, বাসদের হাচিনুর রহমান, তির্যকের দীপংকর দাস রতন, সিপিবির মাহবুবুর রহমান মজনু, কমিউনিস্ট লীগের তসলিমুর রহমান, সাঈদ আহমেদ নাসির সেফার্ড, মনিরুজ্জামান ও নজরুল ইসলাম।