জিয়া হত্যা মামলা: মাসুদ উদ্দিনের মুঠোফোনের সূত্রে যেভাবে ৪৫ বছর পর ধরা পড়লেন মোজাফফর

0
৪৫ বছর ধরে আত্মগোপনে থাকার পর ডিবি পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সাবেক মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন।। ছবি: সংগৃহীত
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা সাবেক মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে (৭৭) গ্রেপ্তারের পেছনে মূল সূত্র হিসেবে কাজ করেছে এক-এগারোর সময়ের আলোচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মুঠোফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার মাসুদ উদ্দিনের মুঠোফোন থেকে পাওয়া কিছু সন্দেহজনক নম্বরের সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত মোজাফফরকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দলীয় সূত্র ও মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিনের মুঠোফোনের সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড) নেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এতে দেখা যায়, ২০২৩ সাল থেকে রাজধানীর বনানী ও মিরপুর ডিওএইচএসের একই অবস্থান থেকে একাধিক ভুয়া নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে মাসুদ উদ্দিনের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ফোনালাপ ও খুদেবার্তা আদান-প্রদান করেছেন এক ব্যক্তি।

ট্রাইব্যুনাল এই সন্দেহজনক নম্বরগুলোর ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করতে না পারায় নম্বরগুলো পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়। পুলিশ নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়ে উদ্ঘাটন করে যে, এই ব্যক্তিই জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামি মোজাফফর।

গত ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। এরপর গত বুধবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে ডিবির আভিযানিক দল মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করে।

জিজ্ঞাসাবাদের পর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মোজাফফর বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন।

ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, জিয়াকে হত্যার মুহূর্তে সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তাদের অন্যতম ছিলেন মোজাফফর এবং তিনি জিয়ার কাছেই ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন এবং তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা শুধু সন্দেহজনক নম্বরগুলো খুঁজে পেয়েছিল, তবে আসল শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তারের কাজটি করেছে পুলিশ।