জনতার ঢল ভোলা ট্যাংক রোডে

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ পুলিশের গণগ্রেফতার, হয়রানি ও শাসকদলের নানান হুমকির মধ্যেও হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে গতকাল যশোর শহরের ভোলা ট্যাংক রোডে জেলা বিএনপির জনসমাবেশে ছিল জনতার ঢল। বিভিন্ন স্থানে বাধা উপেক্ষা করে উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে নেতা-কর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়।
দলীয় নেতা-কর্মীদের অভিযোগ জনসমাবেশে আসার পথে পুলিশের সাথে ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ সন্ত্রাসীরা যৌথভাবে বিভিন্ন স্থানে সমাবশে আসা – নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
শনিবার কাকা ডাকা ভোরে সমাবেশ স্থলে হাজির হন দলের খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার উপস্থিতিতে সমাবেশের মঞ্চ নির্মাণ থেকে শুরু করে যাবতীয় সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। দুপুর ১২টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সমাবেশ স্থলের পাশে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র থাকায় তাদের বিষয়টি মাথায় রেখে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্দেশে দুপুর ১টায় সমাবেশ শুরু হয়। প্রধান অতিথি দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী সমাবেশ শুরুর ঘণ্টা খানেক পর উপস্থিত হন।
দলীয় নেতা-কর্মীরা মাথায় নানান রঙয়ের টুপি,ব্যানার ফেস্টুনের পাশাপাশি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দলীয় প্রধান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও মন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলামের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড সহকারে মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন । সমাবেশ স্থলে জড়ো নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মাতিয়ে তোলেন। ভোলট্যাংক রোডে দুই পাশের ভবনের ছাদে বসেও সমাবেশে অংশ নেন।
এদিকে শনিবার জেলা বিএনপির সমাবেশে উপজেলা থেকে আসা দলীয় নেতা-কর্মীরা পুলিশ ও শাসকদলের নেতাকর্মীদের বাধার শিকার হন। যশোর-সাতক্ষীরা সড়ক হয়ে মণিরামপুর থেকে আসা নেতা-কর্মীদের বহরটির কুয়াদা বাজারে পুলিশ গতিরোধ করে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড.শহীদ ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, সেখান থেকে পুলিশ ১০ জনের অধিক নেতা-কর্মীকে আটক করে। পরে তার সাথে থাকা উপস্থিত নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।
এদিকে কেশবপুর থেকে সমাবেশে আসার পথে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আজিজুর রহমান আটক হন বলে নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন। কেশবুপর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু সাইদ জানিয়েছেন, কেশবপুর থেকে ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল যোগে তারা রাজগঞ্জ হয়ে যশোরে আসছিলেন। পথিমধ্যে রাজগঞ্জ বাজারের সামান্য দূরে জামতলা নামক স্থানে পৌঁছালে পুলিশ স্থানীয় ছাত্রলীগ,যুবলীগ নেতাকর্মীরা তাদের গতিরোধ করে। এ সময় পুলিশ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় তাদের মারপিটে ছাত্রদল নেতা আশিকুর রহমান, রাজু আহমেদ, যুবদল নেতা ওলিয়ার রহমানসহ ১০ জনের অধিক নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন। এদের মধ্যে আশিকুর রহমানের অবস্থা গুরুতর হওয়া তাকে যশোর-২৫০ শয্যা হাসাপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ তাদের মোটরসাইকেল আটকে রাখে। পরে সেখান থেকে কয়েকজন নেতাকর্মী বাসে করে যশোরে আসার চেষ্টা করলে রাজগঞ্জ সড়কের পলাশী নামক স্থানে পুলিশ বাস থামিয়ে তল্লাশি চালায়। পরে তাদের বাস থেকে নামিয়ে মোবাইল ফোন চেক করে ছাত্রদল,যুবদল কর্মী নিশ্চিত হওয়ার পর আবারও মারপিট করে।
এদিকে শার্শা থেকে একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন,শার্শা উপজেলা মোড়, বেনাপোল বাসস্ট্যান্ড, নাভারণ সাতক্ষীরা মোড়,উলাশী বাজার,বাগআঁচড়া বাজারসহ, একাধিক স্থানে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের অনুসারীরা তাদেরকে সমাবেশে আসতে বাধা দেন। ঝিকরগাছা থেকে আসা নেতা-কর্মীদের ঝিকরগাছা পৌর সদরের বাসস্ট্যান্ড ও লাউজানি এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে সমাবেশে আসা নেতা-কর্মীদের বাধা দেওয়া হয়। সেই সাথে ঝিকরগাছা রেলস্টেশন এলাকায় পুলিশ তল্লাশি করে। বাঘারপাড়া থেকে আসা জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন উপজেলা সদর থেকে শুরু করে, রায়পুর, খাজুরা, ছাতিয়ানতলা, ধলগা রাস্তা এলাকায় সমাবেশে উদ্দেশ্যে আসার পথে নেতা-কর্মীদের পুলিশ বাধা দেয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খান বলেন,দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হিরন্ময় হাতিয়ার অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে খুলনা বিভাগে অতীতের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। তার দৃঢ় মনোবল,সাহসী নেতৃত্বে ও চৌকিস রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্ত্বার কারণে অত্যান্ত সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসনের নির্যাতন,নিপীড়ন ও শাসকদলে অব্যাহত হুমকির মধ্যেও সমাবেশে আসা দলীয় নেতা কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি প্রমান করে সরকারের প্রতি তাদের ন্যূনতম কোন আস্থা নেই।