চৌগাছার প্রতিবন্ধী রিফাতের তৈরি কারে চড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সাক্ষাতকালে তারেক রহমানকে স্মার্ট কার তৈরির পুরো গল্পটি শোনান ওয়াকিমুল ইসলাম।

0
চৌগাছার কিশোর উদ্ভাবক রিফাতের তৈরি ব্যাটারিচালিত স্মার্ট কারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) : ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়ের কাছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে হার মানতে বাধ্য, তারই উজ্জ্বল উদাহরণ যশোরের চৌগাছার কিশোর উদ্ভাবক ওয়াকিমুল ইসলাম রিফাত (১৭)। নিজের হাতে তৈরি ব্যাটারিচালিত স্মার্ট কারে চড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘুরিয়েছেন এই মেধাবী তরুণ।

শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত একটি কার প্রদর্শনীতে রিফাতের উদ্ভাবিত কারটি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাড়িটিতে উঠে বসেন এবং রিফাত নিজেই সেটি চালান। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি

চৌগাছার কিশোর উদ্ভাবক রিফাতের তৈরি ব্যাটারিচালিত স্মার্ট কার দেখছেন ও তার কথা শুনছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জানা গেছে, চৌগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়ার বাসিন্দা রিফাত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। জন্ম থেকেই তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে লড়াই করছেন। আড়াই ফুট উচ্চতার এই কিশোর কয়েক বছর আগে নিজের প্রয়োজন থেকেই ব্যাটারিচালিত একটি ছোট গাড়ি তৈরির উদ্যোগ নেন। পরে সেটি “এটিআই স্মার্ট কার” নামে পরিচিতি পায়।

রিফাতের উদ্ভাবন ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এবার তার উদ্ভাবনী প্রতিভা প্রধানমন্ত্রীর নজরেও আসে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মোস্তফা জুলফিকার হাসান, শাহাদৎ হোসেন স্বাধীনসহ কার্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

রিফাত বর্তমানে চৌগাছা সরকারি কলেজ-এর বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বড় ভাই সাব্বির হোসেন স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন এবং ছোট বোন লাইভা আক্তার একই কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত।

রিফাতের মা লাকি খাতুন বলেন, জন্ম থেকেই রিফাত শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার। তবে ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন জিনিস তৈরিতে তার আগ্রহ ছিল। পুরোনো মোবাইল ব্যাটারি দিয়ে চার্জার লাইট, ছোট গাড়িসহ নানা জিনিস তৈরি করেছে সে।

তিনি জানান, নিজের চলাচলের সুবিধার জন্য রিফাত একটি কার তৈরির স্বপ্ন দেখে। পরিবারের সহায়তায় প্রায় ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে গাড়িটি তৈরি করা হয়। বর্তমানে সে ওই গাড়িতে করেই কলেজে যাতায়াত করে।

লাকি খাতুন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী আমার ছেলের তৈরি গাড়িতে চড়েছেন। একজন মা হিসেবে এর চেয়ে বড় আনন্দ আর হতে পারে না।”

রিফাতের ছোট বোন লাইভা আক্তার বলেন, “আমরা একই কলেজে পড়ি। ভাইয়ার তৈরি গাড়িতে করেই আমরা কলেজে যাই। আজ প্রধানমন্ত্রী সেই গাড়িতে চড়েছেন—এটা আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের।”

ওয়াকিমুল ইসলাম রিফাত বলেন, “এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুভূতি। আমি একজন প্রতিবন্ধী হয়েও কিছু তৈরি করতে পেরেছি, সেটি দেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুশি হয়েছেন। তিনি আমাকে আরও এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন।”

চৌগাছা সরকারি কলেজ-এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, “রিফাত অত্যন্ত মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। বিজ্ঞান মেলায় তার উদ্ভাবনী কাজ প্রশংসিত হয়েছে। তাকে নিয়ে আমরা গর্বিত।”