চৌগাছায় বেসরকারি হাসপাতালের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব, হাতাহাতি

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছায় আশ-শেফা প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারের মালিকানা নিয়ে তুলকালামকাণ্ড ঘটেছে। শনিবার দুপুরে হাসপাতাল অভ্যন্তরে বিল্ডিং মালিক ও এক জামায়াত নেতার মধ্যে হাতাহাতি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভবন মালিক সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা-যশোর সড়কে মধুমতি নামে একটি প্রাইভেট হাসপাতাল গড়ে ওঠে। সেটি পরিচালনা করতেন ভবন মালিক উজ্জ্বল সহোদর। তারা ব্যর্থ হয়ে হাসপাতালটি ২০২৫ সালের প্রথম দিকে চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমদসহ ৫৬ শরিকের কাছে মাসিক ৪৩ হাজার টাকায় ভাড়া চুক্তিতে ১০ বছরের জন্য লিজ দেন।

কিছু দিন পরে হাসপাতাল পরিচালনার স্বার্থে ভবন মালিক ও অংশীদার সকলেই আরও একটি চুক্তিবদ্ধ হন এবং তারা সবাই মিলে একক ভাবে জামায়াত নেতা কামাল আহমেদের নামে হাসপাতাল চুক্তিবদ্ধ হন। ভবন মালিকের অভিযোগ কিছু দিন যেতে না যেতেই অত্যন্ত গোপনে কামাল আহমেদ তার অংশের টাকা ফেরত নিয়ে আর এক জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবের নামে ডিড করেন।

এ বিষয় জানাজানি হলে অন্য ৫৪ জন অংশীদার ফুঁসে উঠেন। তারা হাবিবের একক নামে ডিড কোন ভাবেই মেনে নিতে নারাজ। একই অবস্থা সৃষ্টি হয় ভবন মালিকের পক্ষ হতে। ভবন মালিকের দাবি তিনি কামালকে ডিড করে দিয়েছেন। কামাল অন্যত্র এটি দিতে পারেন না, আর দিলে ভবন মালিককে অবহিত করতে হবে। এ নিয়ে চলতে থকে বেশ রেষারেষি।

ভবন মালিক বিল্লাল হোসেন দ্বিতীয় চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া হাবিবকে তার ভবন ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই মধ্যে নানা অনিয়মের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মাকর্তা ডা. আহসানুল মিজান রুমি প্রাইভেট হাসপাতালকে সিলগালা করেন।

শনিবার দুপুরে সিলগালা ভঙ্গ করে দ্বিতীয় চুক্তিবদ্ধ জামায়াত নেতা হাবিব হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গেলে তাতে বাধা দেন ভবন মালিক বিল্লাল হোসেন। এতে প্রথমে কথাকাটাকাটি এরপর হাতাহাতি পরে বাঁশ হাঁতুড়ি নিয়ে একে অপরের দিকে তেড়ে আসে। সেসময়ে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও উত্তেজনা এখনো বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে দ্বিতীয় চুক্তিবদ্ধ হওয়া হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, প্রথম চুক্তিবদ্ধ হওয়া মাস্টার কামাল ব্যক্তিগত কারণে তার অংশ নিয়ে আমার নামে তিনি চুক্তি করেছেন। কিন্তু এটি ভবন মালিক মানতে নারাজ এ নিয়ে শনিবার কিছুটা বাকবিতান্ড হয়েছে।

প্রথম চুক্তিবদ্ধ হওয়া জামায়াত নেতা কামাল আহমদের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভবন মালিকের দাবি পুরোটাই সঠিক না। তবে আমি একটি জরুরি কাজে আছি পরে কথা বলছি বলে ফোন কেটে দেন।

ভবন মালিক বিল্লাল হোসেন জানান, আমি মাসিক চুক্তিতে মাস্টার কামালের নামে ব্যবসা পরিচালনার চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। কামাল আমাকে না জানিয়ে তিনি হাবিবের নামে চুক্তি করে চলে গেছেন।