চুয়াডাঙ্গায় নারীর গলিত লাশ উদ্ধার ঘটনায় আটক ২, আদালতে স্বীকারোক্তি

0
চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা।।  চুয়াডাঙ্গার হাজরাহাটি-বোয়ালমারী মাঠ থেকে উদ্ধারকরা ভাংবাড়ীয়া গ্রামের খালেদা আক্তার মুন্নি হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দু’জন গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) রিয়াজুল ইসলাম জানান, আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামের মৃত খোয়াজ আলী শেখের মেয়ে খালেদা আক্তার মুন্নি (১৮) গত শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২ টার দিকে হাটবোয়ালিয়া বাজারে কেনাকাটা করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। ওই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে সে তার মাকে মোবাইল ফোনে  জানায়, কেনাকাটা করতে রাত হওয়ায় সে আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরে তার খালার বাসায় থাকবে। পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সকাল ৮ টায় হাজরাহাটি-বোয়ালমারী মাঠ থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহে বিভিন্ন জায়গায় ট্যাটু দেখে খালেদা আক্তার মুন্নির বলে শনাক্ত করে। মুন্নির মা বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে হত্যাকাণ্ডে  জড়িত সন্দেহে পৌর এলাকার হাজরাহাটি শেখ পাড়ার টোকন আলীর ছেলে মানিক আলী ওরফে মানিক মুন্সী (২২) ও একই পাড়ার মইদুল ইসলামের ছেলে পারভেজ মুন্সী ওরফে স্বপনকে (১৯) তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার মানিক আলী ওরফে মানিক মুন্সী (২২) জানায়, গত বুধবার (৬ নভেম্বর) সে ও তার বন্ধুরা বড়গাংনী গ্রামে মুন্নির সঙ্গে টাকার বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য নিয়ে আসলে সে স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাদের ব্লাকমেইল করে ২০ হাজার টাকা আদায় করে। এরপর সে এ ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। গত শনিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে মোবাইল ফোনকলের মাধ্যমে মানিক মুন্সীর সাথে মুন্নি সারারাত ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক করতে সম্মত হয়। ওই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে মুন্নি সদর উপজেলার বোয়ালমারী নীলমনিগঞ্জ পিটিআই মোড়ে মানিক মুন্সীকে আসতে বলে। এরপর পারভেজ মুন্সী ওরফে স্বপন পিটিআই মোড় থেকে মোটরসাইকেলে করে তাকে নিয়ে বোয়ালমারী শ্মশানের রাস্তার ফাঁকা জায়গায় মানিক মুন্সীর কাছে নিয়ে যায়। দুই জনই সেখানে একটি পানবরজের পিছনের  মুন্নির সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। কিছু সময় পর স্বপন ঘটনাস্থল থেকে চলে গেলেও  মানিক মুন্সী থেকে যায়। পরে মুন্নিকে ৫ হাজার টাকা দিলে সে টাকা নিতে অসম্মতি প্রকাশ করে এবং চিৎকার করতে থাকে। সে সময় মানিক মুন্নির গলা চেপে ধরলে সে উপুড় হয়ে পড়ে যায়। এরপর মানিক মুন্সী তার পিঠের উপর বসে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে জঙ্গলের ফেলে রেখে চলে যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো জানান, ঘটনার বর্ণনা দিয়ে গ্রেফতার দু’জন আদালতের বিচারকের কাছে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায়  স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী  দেওয়ার পর তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।